স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: লকডাউন দেশ। এরাজ্যও তালাবন্দি। এমন পরিস্থিতিতে এক অসুস্থ বৃদ্ধাকে মৃত্যুশয্যা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করালেন বারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক।

বার্ধক্য জনিত রোগে ভুক্তভোগী ওই বৃদ্ধার নাম জয়ন্তী বসু (৮৫)। বারাকপুরের অতিন্দ্র কমপ্লেক্সের তিনতলার ফ্ল্যাটের বাসিন্দা জয়ন্তি দেবী। গত তিনদিন তিনি কিছুই খাচ্ছিলেন না। অসহায় ওই বৃদ্ধাকে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে খাবার দিয়ে যাওয়া হত তার ফ্ল্যাটের দরজার সামনে। গত তিনদিন ওই খাবার মুখে তোলেননি নিজের ঘরে শয্যাশায়ী বৃদ্ধা জয়ন্তী দেবী। এমনকি ঘরের দরজাও খুলছিলেন না তিনি। তাতেই সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। সঙ্গে-সঙ্গে তারা খবর দেন বারাকপুরের স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক শীলভদ্র দত্তকে। তিনি বিষয়টি টিটাগড় থানার পুলিশকে জানান এবং নিজে ওই বৃদ্ধার ফ্ল্যাটে পৌঁছান।

পরে পুলিশ এসে ওই ফ্লাটের দরজা খুলে দেখেন একাকী বৃদ্ধা জয়ন্তী দেবী ঘরে শুয়ে কাতরাচ্ছেন । উঠে বসার ক্ষমতাও নেই তার। বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগতে থাকা অসুস্থ ওই বৃদ্ধাকে এরপর বিধায়কের তৎপরতায় উদ্ধার করে করে নিয়ে যাওয়া হয় বারাকপুর বি এন বসু মহকুমা হাসপাতালে। সেখানেই বর্তমানে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই বৃদ্ধার আত্মীয়দের খবর পাঠিয়েছেন পুলিশ।

বৃদ্ধার ফ্ল্যাটের অন্যান্য বাসিন্দারা বলেন, “বৃদ্ধা বেশ কয়েক বছর আগে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। তিনি দমদম মতিঝিল কলেজের অশিক্ষক কর্মী ছিলেন। কলেজ থেকে অবসর গ্রহণের পর সরকারি টাকা পয়সাও নেননি। বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। বিয়ে করেননি জয়ন্তী দেবী। কিছুদিন আগেও তিনি বারাকপুর স্টেশনে ঘুরে বেরিয়েছেন। উনার নিজের বলতে এক দাদা আছেন। এদিকে গত তিনদিন ধরে ওই বৃদ্ধা একদম খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। তাই আমরা বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করে ছিলাম । এদিন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।” এদিকে রাজ্যোর এমন কঠিন পরিস্থিতিতে বিধায়ক এবং পুলিশের তৎপরতায় মুগ্ধ বারাকপুরবাসী।