স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আইনসভার আদর্শ আচরণবিধি নিয়ে শাসক-বিরোধী, উভয় দলের বিধায়কদেরই পাঠ দেওয়া হয়৷ কিন্তু বাস্তবে যে তা কার্যকরী হয় না সেই উদাহরণ মিলল মঙ্গলবার৷ এদিন বিধানসভার ভিতরে কাটমানির প্রসঙ্গ তোলায় বাগদার বিধায়ক দুলাল বরকে তুই-তোকারি করলেন তৃণমূল বিধায়করা৷এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিরোধীরা৷

কাটমানি ইস্যুতে গতকাল অর্থাৎ সোমবার থেকেই সরগরম বিধানসভার অধিবেশন৷ ওইদিন এবিষয়ে মুলতুবি প্রস্তাব বা ১৮৫ ধারায় আলোচনা চেয়ে ওয়াকআউট করে বিরোধীরা৷মঙ্গলবারও বিধানসভায় উত্তপ্ত পরিবেশ বজায় ছিল৷ সোমবার বিধানসভার বাইরে বিক্ষোভ দেখানোর সময় কাটমানি নিয়ে বাম-কংগ্রেসের হাতে যে পোস্টার ছিল তাতে লেখা ছিল ‘কাটমানি = CM’৷

এদিন সেই পোস্টারের প্রসঙ্গ তুলে দুলাল বর বলেন, ‘সরকার বলছে কাটমানি নিলে জেল হতে পারে। কাল পোস্টার দেখলাম ‘কাটমানি মানে CM”। এর পরই রে রে করে ওঠেন তৃণমূল বিধায়করা৷ চিৎকার করে এক তৃণমূল বিধায়ক তাঁকে বলেন, ‘তুই কোন দলে আছিস, সেটা আগে বল।’ ট্রেজারি বেঞ্চে যাঁরা বসেছিলেন তাঁদের চিৎকারে আর কিছু বলার সুযোগ পাননি দুলালবাবু৷

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলে টিকিট না পেয়ে কংগ্রেসে গিয়েছিলেন দুলালবাবু৷ হাতচিহ্ণে জেতার দুবছর পর ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন তিনি৷কিন্তু বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেননি তিনি৷ লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপিতে যোগদান করেছেন বাগদার কংগ্রেসি বিধায়ক দুলাল বর।

এদিকে, এদিন কাটমানি তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তোলেন বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘কাটমানিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়িত। এর ফলে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। অবিলম্বে কমিশন গঠন করে বিষয়টির তদন্ত করা উচিত।’

উল্লেখ্য, কাটমানি ইস্যুতে ইতিমধ্যেই কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকার। সোমবার নবান্নে সাংবাদিকদের এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) জ্ঞানবন্ত সিং জানিয়েছেন, এবার থেকে কোনও জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে কাটমানি খাওয়া বা তছরুপের অভিযোগ পেলেই ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কাটমানি সংক্রান্ত যে কোনও অভিযোগ নিয়ে থানায় কেউ এলে, তা গুরুত্ব দিয়ে লিপিবদ্ধ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত, প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দিতে কেউ নিয়েছেন কাটমানি এবং সরকারি প্রকল্পে কেউ আবার উপভোক্তার কাছ থেকে সরাসরি ঘুষ নিয়েছেন—সব মিলিয়ে দলের এহেন অংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।