আইজল ও আগরতলা: আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাজ্য সীমান্তে মিশে আছে মিজোরাম ও ত্রিপুরা। অল্প দূরে বাংলাদেশ। এমনই এলাকায় সোমবার যে বিপুল পরিমাণ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র পাচার বানচাল করেছে বিএসএফ তার পরিমাণ সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর পূর্ব ভারতে সর্বাধিক।তিনদিন কেটে গেলেও এখনও স্পষ্ট হয়নি ঠিক কোথায় পাচার করা হচ্ছিল এই অস্ত্র সম্ভার।

২৮টি এ কে সিরিজের রাইফেল, একটি AK-74, একটি কার্বাইন ও ৭ হাজারের বেশি কার্তুজ পাচারের সময় ধৃত তিন পাচারকারী লালহুয়াপাজাউভা, ভানলালরুয়াটা ও লিয়ানসাঙ্গাকে জেরা করছে মিজোরাম পুলিশ ও বিএসএফ। আইজি মিজোরাম এই জেরা তদারকি করছেন।

জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ত্রিপুরা পুলিশের প্রতিনিধি দল মিজোরামে গিয়ে জেরায় অংশ নেবে। বিরাট আগ্নেয়াস্ত্র পাচার চক্রের গোপন সংবাদ সংগ্রহে তৈরি হয়েছে যৌথ তদন্ত কমিটি।

সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে ধৃতেরা কবুল করেছে, ত্রিপুরার একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এই আগ্নেয়াস্ত্রের ক্রেতা। মায়ানমার থেকে মিজোরাম, ত্রিপুরা হয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে পাচারের ‘রুট’ তৈরি করা হয়। সেই হিসাবে জম্পুই পাহাড়ের দুর্গম এলাকা দিয়েই পাচার চলছিল।

তিনদিকে বাংলাদেশের সীমান্তে ঘেরা ত্রিপুরা। রাজ্যের কাঞ্চনপুর লাগোয়া হল পড়শি মিজোরাম। এই এলাকা জম্পুই পাহাড় ঘেরা। বাংলাদেশ থেকে কমবেশি ১৫ কিলোমিটার দূরে মিজোরামের মামিট জেলার ফুলদংশাই গ্রাম। এই গ্রাম থেকে আগ্নেয়াস্ত্রের চোরাচালান ও পাচারকারীরা ধরা পড়ে। বিএসএফ ও মিজো পুলিশের যৌথ অভিযানের পর থেকেই এলাকা থমথমে।

জম্পুই পাহাড় এলাকার ছোট বড় গ্রাম ও হাটে চাপা ভয় ছড়িয়েছে। স্থানীয় উপজাতি লুসাইরা ভীত। একইভাবে ত্রিপুরার দিকে কাঞ্চনপুরেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সূত্রের খবর, ধৃত পাচারকারীদের তথ্যে উঠে এসেছে মিজোরামের এক আগ্নেয়াস্ত্র পাচারকারীর নাম। তার খোঁজ চলছে।

সামনেই ত্রিপুরার উপজাতি স্বশাসিত এলাকা (এডিসি) নির্বাচন। বিরোধী দল সিপিআইএমের অভিযোগ, লোকসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনের মতো রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি করছে বিজেপি। আসন্ন এডিসি নির্বাচনেও একই পথ নেবে তারা। তবে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক বলেই দাবি বিজেপির।

ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী নেতা মানিক সরকার আগেই দাবি করেছেন, রাজ্যের সীমান্তে ও বাংলাদেশ লাগোয়া এলাকায় উপজাতি সশস্ত্র গোষ্ঠী এনএলএফটির তৎপরতা বেড়েছে। তিনি বলেন, বাম আমলে রাজ্যে জঙ্গি ক্রিয়াকলাপ একেবারেই নিশ্চিহ্ন করা হয়েছিল। বিজেপি ও পৃথক রাজ্যের দাবিদার আইপিএফটি জোট সরকারের আমলে ফের সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি।

সম্প্রতি ত্রিপুরা বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সদস্যরা ধরা পড়ে। এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব বলেন, কোনও অবস্থায় সন্ত্রাসবাদ বরদাস্ত করা হবে না। একইভাবে বিরোধী নেতা মানিক সরকারও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারকে দৃঢ় হতে বলেছেন।

মিজোরামের ডেপুটি আইজি (হেডকোয়ার্টার) জন নেইহালাইয়া জানিয়েছেন, অস্ত্র পাচারকারীদের একজন বিদেশি। সে মায়ানমারের বাসিন্দা। রাজধানী শহর আইজলে ঘরভাড়া নিয়ে তারা তিনজন থাকত। ধৃতদের জেরা করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।