সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : সিনেমা এখন অনলাইন প্লাটফর্ম নির্ভর। করোনা কালে সিনেমা হলে যাওয়া ক্রমে কমছে। অনেক দিন থেকেই শহরের বহু ঐতিহ্যবাহী সিঙ্গল স্ক্রিনগুলি বন্ধ হচ্ছে। সম্প্রতি বন্ধ হয়েছে মিত্রা সিনেমা। তা ভেঙে তৈরি হচ্ছে শপিং মল। এবার তার ভিতরের ছবি সামনে এসেছে। যা দেখে দুঃখিত নেটিজেনরা। সেই ছবি শেয়ার করেছেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। তিনিও দুঃখপ্রকাশ করেছেন।

৮৮ বছর ধরে দিয়েছে শহরের বিনোদনের সঙ্গী ছিল মিত্রা সিনেমা। যার ভাঙনকাল শুরু হয়ে গিয়েছে। মিত্রা সিনেমার পথ চলা শুরু হয় ১৯৩১ সালে বীরেন্দ্রনাথ সরকারের হাত ধরে। সিনেমাহলের উদ্বোধন করেন স্বয়ং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস। তবে তখন এর নাম “মিত্রা সিনেমা” ছিল না, ছিল “চিত্রা সিনেমা”। চিত্রার মালিকানা ছিল নিউ থিয়েটার্সের হাতে। ৩০ ডিসেম্বর ১৯৩০ সালে চিত্রার উদ্বোধন হয় নির্বাক ছবি ‘শ্রাীকান্ত’ দিয়ে। এর পর মার্চ ১৯৩১ সালে এটি সবাক প্রেক্ষাগৃহে রূপান্তরিত হয়।

নিউ থিয়েটার্সের যাবতীয় বিখ্যাত চলচ্চিত্র চিত্রায় মুক্তি পায়। রবীন্দ্রনাথ অভিনীত ‘নটীর পূজা’ চিত্রায় মুক্তি পেয়েছিল ২২ মার্চ, ১৯৩২। ‘চণ্ডীদাস’, ‘রূপলেখা’, ‘দেবদাস’, ‘ভাগ্যচক্র’, ‘গৃহদাহ’, ‘মুক্তি’ ছবিগুলি ১৯৩০-এর দশক জুড়ে মুক্তি পায়। ‘দেবদাস’ ছবিটি শরৎচন্দ্র চিত্রায় গিয়ে দেখেছিলেন। ছবিটি দেখে তিনি এত খুশি হন যে নিজের পয়সায় সকলকে মিষ্টিমুখ করিয়েছিলেন চিত্রা প্রেক্ষাগৃহের কার্যালয়ের ঘরে।

যখন নিউ থিয়েটার্সের ছবি থাকত না, তখন চিত্রায় অন্য প্রযোজক সংস্থার ছবি দেখানো হত। ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে নিউ থিয়েটার্সের আর্থিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। তাই মালিক বীরেন্দ্রনাথ সরকার চিত্রা বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অবশেষে ১ বৈশাখ, ১৯৬৩ সালে চিত্রার নতুন মালিক হন হেমন্তকুমার মিত্র।

পরবর্তীকালে, ১৯৬৩ সালে যখন হেমন্ত কৃষ্ণ মিত্র এই সিনেমাহলের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে আসেন, তিনি “চিত্রা সিনেমা” নামটি বদলে হলটির নাম রাখেন “মিত্রা সিনেমা”। মিত্রা নামে হলটির পথ চলা শুরু হয় বাঙালির সর্বকালের মহানায়ক উত্তম কুমারের “দেনা পাওনা” সিনেমাটি দিয়ে। এরপর সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, গৌতম ঘোষ, বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের মতো বহু শিল্পীর অসাধারণ শিল্পকলার সাক্ষী হয়েছে এই সিনেমা।

গতবছর মার্চ মাস থেকে হলটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তবুও মনে অনেকে আশা করেছিলেন ফিরবে মিত্রা। ফেরা।হয়নি। মাল্টিপ্লেক্সের চাপে চাপা পড়ে হল। একসময় টিকিটের জন্য দুদিন আগে থেকে লাইন পড়তো, শেষ বয়সে তার দিনে ৫০-৬০ জনের বেশি লোক হতো না।

মিত্রা সিনেমার মালিক দীপেন্দ্র কৃষ্ণ মিত্র কিন্তু কোন চেষ্টাই বাকি রাখেননি। তিনি হলটিকে রেনোভেট করেছিলেন, দর্শকদের মাল্টিপ্লেক্সের মত সমস্ত রকম সুবিধা দেওয়ার জন্য। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.