কলকাতা: দল বদলু তালিকার মূর্ত প্রতীক হয়ে থাকলেন মিঠুন চক্রবর্তী। বাঙালির ‘মহাগুরু’ মুম্বইয়ের বিস্ময় রবিবার থেকে পুরো গেরুয়া। এর আগে গলায় ঝুলেছিল লাল মাফলার, তখন তিনি সিপিআইএমের প্রচারক। পরে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ-সেই দল ছেড়ে মোদীর অনুগামী।

একেবারে বাটারফ্রাই সাঁতার। দুরন্ত ছন্দে দল বদলে ফেলার রাজনীতিতে আচ্ছা আচ্ছা পেশাদার রাজনীতিককেও তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী।

ছাত্র জীবনে বুকে গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরার বিপ্লবের আগুন জ্বলেছিল। নকশাল আন্দোলনের শরিক ছিলেন কিশোর গৌরাঙ্গ। পরে পেশাগত জীবনের রুপোলি দুনিয়ায় মারকাটারি ‘মিঠুন’ উত্থানের পাশাপাশি সেই আগুন ধিকি ধিকি করে জ্বলছিল-তাই বামেদের মিছিলে দেখা গিয়েছিল। অত:পর মমতা দি’র সহযোদ্ধা হয়ে তৃণমূলের রাজনৈতিক নক্ষত্র মুখ

বাম জমানার ক্রাউড পুলার নেতা সুভাষ চক্রবর্তী একাই একশো। শিষ্য সুজিত বসুর সঙ্গে দ্বন্দ্বে অবতীর্ণ হন। জিতেছিলেন নিজের ও সিপিআইএম সংগঠনের দাপটেই। সুজিতবাবু ততদিনে মমতা অনুগামী হয়েছেন। ফলে লড়াইটা ছিল চমকপ্রদ। এই গুরু শিষ্যের ভোট যুদ্ধ বঙ্গ রাজনীতির একটি চর্চিত পর্ব।

সুভাষ চক্রবর্তী প্রয়াত হন ২০০৯ সালে। তাঁর প্রয়াণে বেলগাছিয়া পূর্ব কেন্দ্রে হয় উপনির্বাচন। সুভাষহীন বেলগাছিয়াকে ধরে রাখতে সিপিআইএম প্রার্থী করে মহিলা নেত্রী তথা সুভাষ পত্নী রমলা চক্রবর্তীকে। সেই সঙ্গে প্রচারে নামিয়ে দেয় মিঠুন চক্রবর্তীকেও। তাঁর সঙ্গে সুভাষ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠতা সর্বজন বিদিত।

লড়াই ছিল কঠিন। ‘দাদা’ সুভাষ চক্রবর্তীর ভোট টেকনিকেই বৌদি রমলাকে পরাস্ত করে বিজয়ী হন সুজিত বসু। তৃণমূলের সবুজ আবিরে বেলগাছিয়া ভরে গিয়েছিল। বাম জমানার পতন এগিয়ে আসে দ্রুত। ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার তৈরি হয়।

যে মিঠুন বিরাট মিছিল করে সিপিআইএমের পতাকা দেওয়া গাড়িতে রমলা চক্রবর্তীর সঙ্গে ঘিরেছিলেন তিনিও পাল্টে যান। এরপর তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। ২০১৪ সালে মিঠুনকে দেখা গেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই গাড়িতে। চারিদিকে জোড়াফুল পতাকা। দুজনেই হাত নাড়ছেন। সেই বছরেই তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হন মিঠুন।

মাঝের সময়ে আর্থিক কেলেঙ্কারি বিতর্ক- সেই সময়ে মমতার সঙ্গে মিঠুনের দূরত্ব বেড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে দূরে সরে রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেন। গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে বিরাট ধাক্কা দেয় বিজেপি। এর পর থেকে বিজেপির সঙ্গে নৈকট্য বাড়িয়ে দেন মিঠুন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ব্রিগেডে মোদীর জনসভায় বিজেপিতে সরাসরি যোগদান করলেন তিনি।

রাজনীতিক তারকার মাঝে রুপোলি দুনিয়ার নক্ষত্র সমাহার এখন বঙ্গ রাজনীতিতে। তবে মহাগুরুকে দলে টেনে মমতা কে বড়সড় ধাক্কা দিল বিজেপি। অবলীলায় ফের পক্ষ ত্যাগের রাজনীতি করলেন মিঠুন চক্রবর্তী।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.