সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: বিশ্বকাপ জ্বরে এখনও আক্রান্ত নয় বাঙালি। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে যেন কিছুটা ঘেঁটে গিয়েছে। এমন এক অদ্ভুত সময়ে দাঁড়িয়ে আবার, বাঙালির বাঙালিয়ানা কতটা রয়েছে তা নিয়েও বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে। সেই তালিকায় সাহিত্যিক থেকে রাজনীতিবিদ প্রত্যেকেই রয়েছেন।

বিশ্বকাপ ক্রিকেট এবং বাঙালিয়ানা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠার দিন মনে করায় এমন এক বাঙালিকে যিনি কিন্তু মুম্বইয়ে বসে এক বাঙালি ক্রিকেটারের হয়ে লড়েছিলেন এক বঙ্গসন্তান। চমকে দিয়েছিলেন স্বয়ং বাল ঠাকরেকে। সেই বঙ্গসন্তান মিঠুন চক্রবর্তী। যার হয়ে তিনি গর্জে উঠেছিলেন তিনি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।

 

তখন নব্বইয়ের দশকের শুরু। সৌরভ দলে সুযোগ পেয়েও বাদ গিয়েছেন। জাতীয় দলে ডাক পাচ্ছেন না। এদিকে ভারতের মিডল অর্ডারে তখন ধীরে ধীরে ভরসার জায়গা তৈরি করছেন স্টাইলিশ বিনোদ কাম্বলি। দুজনেই বাঁ হাতে ব্যাট করেন। টেস্ট ক্রিকেটে মিডল অর্ডারে ভালো ব্যাট। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্মেন্স চোখে পড়ার মতো এবং স্টাইলের বিচারে দু’জনেই সমান।

এমন দুই ব্যাটসম্যানকে আমচি মুম্বইতে লড়াইয়ে নেমে পড়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। তাঁর যুক্তি শুধু মুম্বইয়ের মারাঠি ক্রিকেটাররা কেন জাতিয় দলে সুযোগ পাবে, সুযোগ পাওয়া উচিৎ বাংলার প্রতিভাদেরও। সেই সময় মুম্বই লবি মানে বিসিসিআইয়ে রমরমা ব্যপার। বাঙালিদের কথা কে শোনে? শোনাতে বাধ্য করেছিলেন মিঠুন। চমকে দিয়েছিলেন বালসাহেব ঠাকরেকে। সৌরভকে বাদ দিয়ে কাম্বলীকে ভারতীয় দলে নেওয়ার প্রতিবাদে মুম্বইয়ে বসেই গর্জন করেছিলেন।

মিঠুনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল বালা সাহেবের। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, মুম্বইয়ে বসে মরাঠি ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে সরব কেন হচ্ছেন মিঠুন। উত্তর কলকাতার গৌরাঙ্গ বলেছিলেন , তিনি মরাঠি ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে নয়, বাঙালি ক্রিকেটারের প্রতি বঞ্চনার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। বাংলা বঞ্চিত হচ্ছে দেখলেই তিনি গর্জাবেন। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন। মিঠুনের এই বাঙালি আবেগকে কুর্নিশ জানিয়েছিলেন ঠেকাতে পারেননি বালা সাহেব।

আরও পড়ুন: রাম মন্দির নিয়ে অর্ডিন্যান্স আনুক কেন্দ্র, অযোধ্যায় দাবি শিবসেনার

অনেকের হয়তো মনে নেই আইপিএলের আগে ভারতে শুরু হয়েছিল এক বিদ্রোহী ক্রিকেট লীগ। নাম ছিল আইসিএল। সেইটুর্নামেন্টে মিঠুন চক্রবর্তী বাংলার ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার্স’ দলের সহস্বত্ত্বাধিকারী ছিলেন। শোনা যায় একটা সময় মুম্বইয়ে বাঙালি ফৌজ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। বাংলার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য টাকা জোগাড় করতেন। সেই মিঠুন চক্রবর্তীর ১৬ জুন পা দিলেন সত্তরের কোঠায়।

শৈশবে ‘গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী’ নামে বাংলাদেশের বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মৃগয়া (১৯৭৬) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁর অভিষেক ঘটে। এ ছবির মাধ্যমেই তিনি ‘সেরা অভিনেতা’ হিসেবে ভারতের ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ লাভ করেন। তারপর ধাপে ধাপে অনেক সময় অনেক লড়াই পেরিয়ে আজ ৭০-এ পা দিলেন বাঙালি তথা সারা ভারতকে ডিস্কো ড্যান্স শেখানো বাঙালিবাবু মিঠুন।