সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : ‘দিল্লি কা লাড্ডু যো খায়া ওয়হ পচতায়া, যো নেহি খায়া ওয়হ ভি পচতায়া’। কিন্তু এতো কলকাতার লাড্ডু। কিনে খেয়ে হজম করা শক্ত, আবার হজম করে ফেললে আরও খেতে ইচ্ছা করবে। এক্সিট পোলের (Exit Poll) পরিসংখ্যান দেখে যখন বিভিন্ন জায়গায় লাড্ডুর অর্ডার পড়তে শুরু করেছে মিষ্টির দোকানে তখন কলকাতার সেরা লাড্ডু নির্মাতারা বলছেন তাঁরা ধন্ধে রয়েছেন। তাই আগে থেকে লাড্ডু বানাবার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।

‘Exit Poll’ সামনে আসার পর থেকেই বিজেপির কর্মী এবং সমর্থকেরা বেজায় খুশি। মুম্বইয়ের বোরিভ্যালি এলাকায় উৎসবের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সেখানে মোদী ঝড় এতটাই যে, ময়রারা মোদী মাস্ক পড়ে লাড্ডু বানানো শুরু করেছে। একই চিত্র ঝাড়গ্রামেও। বিনপুরের দহিজুড়িতে বিজেপির পক্ষ থেকে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু কলকাতায় সেরা কি ? রসগোল্লা। এই গোল্লা কার হাতে যাবে তা এখনও বুঝতে পারছে তেওয়ারি ব্রাদার্স মিষ্টির দোকান।

ফাইল ছবি

অন্যন্য ভোটের আগে অল্প হলেও আঁচ করতে পাড়া যায় কিন্তু এবারে কোনদিকে কি হবে কিছুই ঠাহর করা যাচ্ছে না। এক্সিট পোলেও তাঁরা একেবারেই বিশ্বাস রাখতে পারছেন না। তাই লাড্ডু নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। যেমন অর্ডার আসবে সেই অনুযায়ী লাড্ডু বানাবেন বলে জানিয়েছেন। সম্ভবত বিজেপির পক্ষেও তেমন কোনও পূর্ব উচ্ছাসের পরিকল্পনা নেই। তাই কলকাতার সেরা লাড্ডুর দোকানে এখনও পর্যন্ত কোনও অর্ডার এসেই পড়েনি।

তেওয়ারি ব্রাদার্সের ডিরেক্টর বলেন রামলাল তেওয়ারি বলেন , “এখন প্রচুর আনসার্টেনিটি আছে। কাল যখন ফল বেরোবে তখনই বোঝা যাবে। আগে থেকে কিছু বলা যাচ্ছে না।” একইসঙ্গে তিনি বলেন , “এক্সিট পোল ঠিক বলছে ভুল বলছে কিছু বুঝতে পারছি না। যা হবে বৃহস্পতিবার বোঝা যাবে।” রামলালের কথায় , “শুধু বিজেপি নয় সমস্ত দলই শুভেচ্ছা দেওয়ার জন্য আমাদের থেকে লাড্ডু নিয়ে যান। তবে এবার এখনও অর্ডার নেই। অন্যন্য দিনের থেকে এমন বিশেষ দিন গুলিতে অন্তত পাঁচ শতাংশ লাড্ডু আমরা বেশি তৈরি করি।”

নিয়েলসন হোক কিংবা অন্যন্য সংবাদ সংস্থা তাদের বাংলার লোকসভা এক্সিট পোলের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে বিজেপি তাদের আসন সংখ্যা প্রচুর পরিমানে বাড়াবে। কোথাও বলা হচ্ছে ১৬, কোথাও ১৮, কোথাওবা ২৩টি আসন পেতে পারে বিজেপি এমন পরিসংখ্যানও দেওয়া হয়েছে। এক্সিট পোলের এই ফল দেখে মাথা ঘুরে গিয়েছে বাংলার অনেক তাবড় রাজনীতিবিদদের। তারা বলছেন, ভোট স্যুইং বলে একটা শব্দ আছে কিন্তু এমন হারে হাওয়া ঘুরবে বলে তাদের ভাবনায় আসেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেছেন এসবই বিজেপির চাল।

এক্সিট পোলের মাধ্যমে বিরোধীদের প্রভাবিত করে ইভিএমে কারচুপি করার পরিকল্পনা করছে বিজেপি। হাওড়ার বেলুড়ে একটি স্ট্রং রুমে তাই আজ থেকেই পাহারায় বসেছে তৃণমূল সমর্থকরা, কিন্তু কি হবে বৃহস্পতিবার তা বোঝা যাবে বাক্স খুললে তবেই। বিজেপির হাতে উঠবে লাড্ডু নাকি জুটবে রসগোল্লা উত্তর দেবে ২৩ মে।