সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : গুমনামি বাবা, হ্যাঁ তিনিই নাকি নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস। এমনই বলার চেষ্টা হয়েছিল সিনেমার পর্দায়। কিন্তু এসব রহস্য উন্মোচন শুধুই ফিল্মি কথায় হয় না। হাতে গরম প্রমাণও জরুরি। ১৫ বছর ধরে নেতাজিকে নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে ‘মিশন নেতাজি’ । এবার তাঁদেরই দাবি, গুমনামি বাবার সঙ্গে নাকি মিলে গিয়েছে নেতাজির হাতের লেখা। একইসঙ্গে সরকারি ডিএনএ টেস্টের অসঙ্গতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ‘মিশন নেতাজি’র সদস্যরা।

‘মিশন নেতাজি’র প্রধান চন্দ্রচূড় ঘোষ ও অনুজ ধর গত বছর ‘কনান্ড্রাম’ নামে একটি ৮৫০ পাতার বই লেখেন। সেখানেই নেতাজি সম্পর্কে বহু তথ্য দিয়েছিলেন তাঁরা। চন্দ্রচূড় ঘোষ বলেন, ‘আমরা নেতাজির বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু নিয়ে কিছু বলতে চাই না। কারণ এটা অনেক আগেই প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে ওই তথ্য ভুল।’

তাহলে এর পরের ঘটনা কি? কোথায় গেলেন দেশনায়ক?’ সারা বাংলা জুড়ে সেমিনার করছেন তারা ‘মিশন নেতাজি’র সদস্যরা। প্রথম সেমিনার ছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে। সেখানে চন্দ্রচূড় ঘোষ বলেন, ‘গুমনামি বাবা এই নামে ওনাকে আমরা ডাকতে চাই না। রাষ্ট্রনায়কের সঙ্গে ‘বাবাজি’ জুড়ে দেওয়া ঠিক নয়। তার থেকে প্রচলিত ‘ভগবানজী’ অনেক ভালো। এই ভগবানজিকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয় ১৯৮৫ সালে উত্তরপ্রদেশের বাড়িতে তাঁর মৃত্যুর পর থেকে। তাঁকে নিয়ে স্থানীয় সংবাদসংস্থা নাগাড়ে লিখে গেলেও রিসার্চমূলক কাজ শুরু হয় ভগবানজির মৃত্যুর পরে।’

সাত হাজার জিনিস মিলেছে ওই ঘর থেকে। যার সঙ্গে নেতাজির সরাসরি যোগ মিলেছে। সেখানে নেতাজির বাবা মায়ের ছবি যেমন ছিল তেমনই ছিল জার্মান পাইপ, সামরিক বাহিনী সংক্রান্ত বই সহ ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে বহু বই। সবই নেতাজির জীবনের সঙ্গে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িয়েছিল।

‘মিশন নেতাজি’র তরফে একটি চিঠির উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে লেখা ও নেতাজির হাতের লেখার মিলের বিষয়িটির উল্লেখ করেছেন গবেষকরা। বেশিরভাগ চিঠিতেই তাঁর কথাবার্তা হয়েছে তাঁরই আইএনএ সহকর্মীদের সঙ্গে। একটি চিঠিতে নেতাজির সেজদার সঙ্গে কথোপকথনের চিঠি মিলেছে। যেখানে গুমনামি বাবাকে সুরেশ বসু ফিরে আসার আর্জি জানিয়েছেন। উত্তরে গুমনামি বাবা জানাচ্ছেন, তিনি আর ফিরতে চান না। সহকর্মী লীলা রায়ের চিঠির প্রশ্নে উত্তর দিতে গিয়েও গুমনামিবাবা জানিয়েছেন তিনি পাথর হয়ে গিয়েছেন। তাই আর তাঁর কোথাও ফেরার ইচ্ছা নেই। এমন হাজারও চিঠির কথা গুমনামির নেতাজি হওয়ার প্রমাণ দেয় বলে জানিয়েছে ‘মিশন নেতাজী’।

জীবনের শেষ পর্বে নিজেকে প্রকাশ করতেও চেয়েছিলেন গুমনাম। কিন্তু সোজাসুজি নয়। তবু এক চিঠিতে লিখেছেন ‘Bose is alive’। একের পর এক চিঠিতে নেহরু গান্ধীজিকে নিয়ে আলোচনাও সেই ইঙ্গিতকে স্পষ্ট করে বলে দাবি ‘মিশন নেতাজি’র।

দেশের হ্যান্ডরাইটিং স্পেশ্যালিস্ট , আমেরিকার হাতের লেখা বিশেষজ্ঞ অন রেকর্ড জানিয়েছেন গুমনামির হাতের লেখা ও নেতাজির লেখার মিল স্পষ্ট। তাঁরা এও জানিয়ে দিয়েছেন , চিঠির লেখার দুই ব্যক্তি একজনই। এমন মানুষকে দিয়ে ওই কাজ করানো হয়েছে যিনি গুমনামি বা নেতাজির সম্পর্কে জানেন না। উত্তর পজেটিভই এসেছে বলে জানাচ্ছে ‘মিশন নেতাজি’।

তবু কেন সরকার চুপ? চন্দ্রচূড় ঘোষ বলেন, ‘আমরা আরটিআই আইনকে কাজে লাগিয়ে ডিএনএ টেস্টের আবেদন জানিয়েছিলাম। বারবার উত্তর এসেছে উত্তর পজেটিভ নেগেটিভ যাই আসুক এতে দেশে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হতে পারে। বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতে পারে। তাই এই ঝুঁকি কেউ নিতে চায় না কোনও সরকার। আর নেতাজির আসল ফাইল আইবি ফাইল। সেই ফাইল বলে বলেও প্রকাশ করানো যায়নি। আমরা ডিএনএ টেস্ট করিয়েছি সেখানেও পজিটিভ উত্তর এসেছে’।