পাটনা: খোঁজ নেই দলের প্রধানের। সেই দল আবার রাজ্যের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল। আর নিখোঁজ ব্যক্তি আবার একসময়ে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।

মাস খানেক ধরে এই ব্যক্তির খোঁজ না মেলায় নিখোঁজ বিজ্ঞাপন দেখা গিয়েছে ব্যস্ত রাস্তায়। শুধু তাই নয়, খোঁজ দিতে পারলে আর্থিক পুরষ্কারের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন- কলকাতাকে ‘সাহিত্যের শহর’ খেতাব দেওয়ার সম্ভাবনা ইউনেস্কোর

যাকে নিয়ে এত আলোচনা তিনি হলেন বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব। যাঁর কাঁধে রয়েছে রাষ্ট্রীয় জনতা দল তথা জেডিইউ-এর দায়িত্ব। সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তাঁর দেখা মেলেনি।

এই অবস্থায় বিহারের মুজফফরপুর এলাকায় তেজস্বীর নামে দেখা বিশাল হোর্ডিং। সেখানে লেখা রয়েছে যে বিশিষ্ট নেতা তেজস্বী যাদব নিখোঁজ। তাঁর খোঁজ দিতে পারলেই মিলবে নগদ পাঁচ হাজার ১০০ টাকা পুরষ্কার। একই সঙ্গে আরও লেখা রয়েছে যে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে তিনি নিখোঁজ। ঠিক যেমন একটা নিখোঁজ বিজ্ঞাপনে লেখা থাকে।

আরও পড়ুন- বেলুনের মাধ্যমে ভারতের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে না, দাবি চিনা সংবাদ মাধ্যমের

স্থানীয় সমাজসেবী তামান্না হাসমির পক্ষ থেকে ওই হোর্ডিং টাঙানো হয়েছে। তাঁর মোবাইল নম্বরও দেওয়া হয়েছে ওই হোর্ডিং-এ। রাজ্যের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদবের খোঁজ পাওয়া গেলে ওই নম্বরে ফোন করে জানাতে বলা হয়েছে।

আরজেডি প্রতিষ্ঠাতা লালু প্রসাদ যাদব পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির মামলায় শ্রীঘরে রয়েছেন। এই অবস্থায় জ্যেষ্ঠ পুত্র তেজস্বীর উপরেই রয়েছে যাবতীয় দায়িত্ব। মহাজোটে ভর করে রাজ্যের ক্ষমতা পেয়েও তা বছর খানেকের মধ্যে খোয়া গিয়েছে। এরপরে লোকসভা নির্বাচনেও মারাত্মক ভরাডুবি ঘটেছে দলের। লোকসভার ফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকে আর জনসমক্ষে বিশেষ দেখা যায়নি বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রীকে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, মুজফফরপুরে অ্যাকিউট এনসেফেলাইটিস-এর প্রকোপে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই মহামারির মাঝেও দেখা মেলেনি তেজস্বীর। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলনেতার কোনও মন্তব্যও পাওয়া যায়নি। এই বিষয়ে বুধবার তেজস্বীকে নিয়ে মুখ খুলেছিলেন প্রবীণ আরজেডি নেতা রঘুবংশ প্রসাদ সিং। শিশু মৃত্যু নিয়ে যখন রাজ্য উত্তাল তখন তেজস্বী কোথায়? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি জানি না উনি(তেজস্বী) কোথায় আছেন। মনে হয় ক্রিকেট বিশ্বকাপ দেখতে গিয়েছেন। আমি সঠিক বলতে পারব না।”