ঢাকা:   অবশেষে রহস্যজনভাবে নিখোঁজ থাকা দুই বাংলাদেশি বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার দেখাল পুলিশ৷ সেইসঙ্গে বাড়ল জটিলতা৷ অভিযোগ, বাংলাদেশ জনতা পার্টির (বিজেপি) দুই নেতাকে অপহরণ করে রেখেছিল পুলিশ৷ একটানা ১৭ দিন নিখোঁজ ছিলেন তাঁরা৷

বিবিসি জানাচ্ছে, গত ২৭শে অক্টোবর থেকে খোঁজ ছিলেন বিজেপি নেতা মিঠুন চৌধুরী ও আশিক ঘোষ৷ নতুন রাজনৈতিক দল বিজেপি গঠন করার একমাস পরই নিখোঁজ হন তাঁরা৷ অভিযোগ, দুই সংখ্যালঘু নেতাকে অপহরণ করা হয়েছিল৷ বাংলাদেশ জুড়ে সাম্প্রতিক যে গুম-অপহরণের প্রক্রিয়া চলেছে তারই শিকার এই দুই নেতা৷

আন্তর্জাতিক রিপোর্টে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অপহরণ ও গুম ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে৷ ক্ষমতাসীন আওয়ামি লিগের দাবি, এই বিষয়গুলি নেহাতই সরকার বিরোধী প্রচার৷ আর বিরোধী বিএনপি, জাপা সহ একাধিক দলের অভিযোগ, দেশজুড়ে গুম-খুনের অবাধ রাজনীতি চলছে৷

পড়ুন: বাংলাদেশে শতাধিক মানুষকে অপহরণ করা হয়েছে: রিপোর্ট

বিবিসি জানাচ্ছে, টানা ১৭ দিন নিখোঁজ থাকার পর দুই বিজেপি নেতা মিঠুন চৌধুরী ও আশিক ঘোষকে সোমবার রাতে ঢাকায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ এরপরেই প্রশ্ন, তাহলে তারা এতদিন কোথায় ছিলেন ? কী কারণে মিঠুন ও আশিককে গ্রেফতার করা হয়েছে ? বিজেপি শীর্ষ নেতা, মিঠুন চৌধুরীর স্ত্রী বলছেন সাম্প্রতিক কিছু ইস্যুতে মতামত প্রকাশের কারণেই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁর স্বামীসহ দু’জনকে তুলে নেয়৷ এতদিন পর তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে৷ মিঠুন চৌধুরীর স্ত্রী সুমনা চৌধুরী জানিয়েছেন, এটুকু স্বস্তি যে স্বামী বেঁচে আছেন৷ আমার স্বামী পলাতক নন৷

সহকারী পুলিশ কমিশনার ফজলুর রহমানকে উদ্ধৃত করে বিবিসির রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই দুজন নেতা পলাতক ছিলেন তাদের সোমবার রাতে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়৷ “মিঠুন চৌধুরীর বিরুদ্ধে সাতটি মামলা ও ওয়ারেন্ট ছিলো। মামলা ও রাষ্ট্র বিরোধী ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে ৫৪ ধারায় সোমবার আটক করা হয়৷ আদালতের নির্দেশে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা তাদের রিমান্ডে নিয়েছি।

আরও পড়ুন: গোয়েন্দা পুলিশই অপহরণকারী, উদ্ধার লক্ষ লক্ষ টাকা

গত ২০শে সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ জনতা পার্টি বা বিজেপি নামে দলের আত্মপ্রকাশের ঘোষণা করেছিলেন মিঠুন চৌধুরী। তিনি বলেছিলেন এই দল গঠনের উদ্দেশ্য বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা। এর পরেই গত ২৭শে অক্টোবর রাতে মিঠুন চৌধুরী ও তার দলের যুব নেতা আশিক ঘোষ ঢাকার সূত্রাপুর থেকে নিখোঁজ হয়ে যান৷ পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকে থাকা ব্যক্তিরা তাদের অপহরণ করেছিল৷ তবে ঢাকা মহানগর পুলিশ এই অভিযোগ উড়িয়ে দেয়৷

বিবিসি রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে মিঠুন চৌধুরীর মতো নিখোঁজ হয়েছেন বেশ কিছু ব্যক্তি৷ এদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার সাংবাদিক উৎপল দাশ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মোবাশ্বর হাসান ও ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ রায়। এসব নিখোঁজের অনেক ঘটনায় তদন্তে গড়িমসি করার অভিযোগও উঠেছে।

আবার নিখোঁজ হওয়ার পর শিক্ষক মোবাশ্বর হাসানের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মাঝে মধ্যে সক্রিয় হওয়া কিংবা সাংবাদিক উৎপল দাশের পরিবারের কাছে ফোন করে টাকা দাবির মতো ঘটনাও ঘটেছে।

গত জুলাই মাসে বাংলাদেশের খ্যাতিমান লেখক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার এবং তার আগে আরও কয়েকজনের রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া এবং তারপর তাদের খুঁজে পাওয়া গিয়েছে৷ কবি প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহারের অন্তর্ধানের বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ জুড়ে প্রবল আলোড়ন ছড়িয়েছিল৷ বাংলাদেশের একাধিক মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নিখোঁজের ঘটনায়, পুলিশের ভূমিকা নিয়েই জনগণের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

- Advertisement -