স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে হিংসাত্মক ঘটনা, বিশৃঙ্খলা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে ডেপুটেশন দেবে বামফ্রন্ট৷ অন্যদিকে, একই কারণে বিজেপিও নির্বাচনে কমিশনে যাবে৷ বিজেপি নেতা মুকুল রায় এবং জয়প্রকাশ মজুমদার নির্বাচন কমিশনে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন অধিকারিকে সঙ্গে দেখা করে ডেপুটেশন জমা করবেন৷ বাম দল এবং বিজেপির ডেপুটেশনে সরগরম কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, দুপুরের মধ্যেই ৫১.৬০ শতাংশ ভোটদান হয়ে গিয়েছে৷ দার্জিলিংয়ে ৪৭.৫২ শতাংশ, রায়গঞ্জে ৫২.৫৪ শতাংশ, জলপাইগুড়ি ৫৪.৭৩ শতাংশ ভোট পড়েছে দুপুর ১টা পর্যন্ত৷

বৃহস্পতিবার সকালেই রায়গঞ্জের সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিম আক্রান্ত হয়েছেন৷ তাঁর গাড়িতে হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। রিগিংয়ের প্রতিবাদ করাতেই এই হামলা হয় বলে অভিযোগ জানিয়েছেন সেলিমের। সেলিম জানান, ইসলামপুরের নয়াপাড়া টেরিংবাড়ি বুথে সকাল থেকে বুথ দখল করার খবর পেয়ে বুথ কেন্দ্রে যান তিনি। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন কোনও কেন্দ্রীয় বাহিনী নেই৷ শাসকদলের দুষ্কৃতীরা দাঁড়িয়ে থেকে ভোট পরিচালনা করছে৷ সেলিম নিজেই ওই বুথের রক্ষা করতে যান৷ সেই সময় হামলা হয়েছে৷

বাংলায় দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের শুরু থেকেই অশান্তি শুরু হয়েছে৷ ভোটাররা বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন৷ ভোটাররা অভিযোগ জানাতে থাকেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে গেলে বাঁচাবে কে? দার্জিলিংয়ের চোপড়া বিধানসভা কেন্দ্রে ব্যাপক গন্ডোগোল দেখা গিয়েছে৷ কাধিক বুথে ভোটাররা ভোট দিতে পারছেন বলে অভিযোগ ওঠে৷ অভিযোগ ওঠে, ভোটারদের মারধর করা হয়েছে৷ চোপড়াই হাতিঘিসা মোরে উত্তেজনা ছড়ায়৷ এক সময় বিজেপি এবং তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে ইট ছোঁড়াছুড়ি শুরু হয়৷ কিছুক্ষণ করেই নির্বাচন কমিশন রিপোর্ট তলব করে৷

চোপড়া বিধানসভার মিদ্দেপাড়ার ১৫৯ নম্বর বুথে ভোটার স্লিপ কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে৷ গ্রামবাসীরা অভিযোগ জানান, সকালে বাইক বাহিনী তাণ্ডব দেখিয়েছে৷ করণদিঘি কলোনীর ১৮০ নম্বর বুথেও একই ঘটনা ঘটে৷ চোপড়া বাসস্ট্যান্ডে কাছে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে গ্রামবাসীরা৷ দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গ এবং উত্তরপূর্ব ভারতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়৷ অবরোধ চলে টানা ২০ মিনিট৷

কেন্দ্রীয় বাহিনীর কুইক রেসপন্স টিম এসে পৌছালেও ভোটাররা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন৷ পুলিস গ্রামের ভিতরে পেট্রোলিং করে গ্রামবাসীদের আত্মবিশ্বাস দিতে বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন৷ কিন্তু গ্রামবাসী ভয়ে বাড়ি থেকে বেরতে চাইতেই অস্বীকার করা করে৷ দুপুর এক’টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়৷ ভোটারদের আবার নির্দিষ্ট লাইনে দেখা যায়৷ তবে রায়গঞ্জে বিজেপি প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরি সরাসরি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেস বিশৃঙ্খলা শুরু করেছে৷ রিগিং করেছে৷ তবে কংগ্রেস-সিপিএম’র বিরুদ্ধে দেবশ্রীর কোনও অভিযোগ নেই৷