অরুণাভ রাহারায়: গরমের হাত থেকে রক্ষা পেতে আপনার দিন কয়েকের আরামদায়ক ঠিকানা হতে পারে শৈলশহর মিরিক। কলকাতা থেকে যেতে সময় লাগে মাত্র একরাত। পাহাড়ি শহর মিরিক দার্জিলিং জেলায় অবস্থিত। বহুকাল ধরেই বেড়ানোর জায়গা হিসেবে সুপরিচিত। এখানকার আবহাওয়া সব সময় মনোরম। এই কারণেই বছরের যে কোনও সময়, বিশেষ করে গরমে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে ছুটি কাটানোর আদর্শ ঠিকানা হয়ে ওঠে এই মিরিক।

এখানে রয়েছে সুশৃঙ্খল পাইনের সারি। সুমেন্দু লেক এই জায়গার প্রধাণ আকর্ষণ। লেকের ধারে দাঁড়িয়ে দিব্যি দেখে নেওয়া যায় কঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ রূপ। এছাড়া লেকের জলে নৌকাবিহার এবং টাট্টু ঘোড়ায় চেপে লেকের চারপাশ ঘুরে দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। শিলিগুড়ি থেকে যাতাযাতের সুবিধের কারণে এখানে ফি বছর পর্যটকদের রাশ বেশি। এখানে রয়েছে ভিউ পয়েন্ট– রামিতে দারা যেখানে দাঁড়িয়ে চারপাশের পাহাড় ও বিস্তীর্ণ সমভূমি উপভোগ করা যায়। রয়েছে রাই ধাপ পিকনিক স্পট। এটাই মিরিকের প্রধান জলকেন্দ্র।

মিরিকের আশেপাশেও রয়েছে অনেক নিরিবিলি ভ্রমণকেন্দ্র। কোলাহলমুক্ত পরিবেশ চাইলে দেখে নিতে পারেন বোকার মনাস্ট্রি। রামিতে দারায় যাওয়ার পথে এই বৈদ্ধচর্চাকেন্দ্রটি পড়ে। রয়েছে টিংলিং ভিউপয়েন্ট। এখানে দাঁড়ালে চোখ জুড়বে সবুজ চা-বাগানে। যেতে পারেন ডন বসকো চার্চে। ডন বসকো স্কুলের কাছেই অবস্থিত এটি দার্জিলিং জেলার অন্যতম সুন্দর এবং বড় ক্যাথলিক চার্চ। বিগত কয়েক বছর ধরেই মিরিকে গড়ে উঠেছে নানা হোম স্টে। যত দিন যাচ্ছে ততই সৌখিন পর্যটকদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠছে শৈলশহর মিরিক।

কীভাবে যাবেন: শিয়ালদহ থেকে ১৩১৪৯ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নামুন। সেখান থেকে ভাড়া গাড়িতে মিরিক। অথবা দমদম বিমানবন্দর থেকে বিমানে বাগডোগরায় নেমে টাটা সুমোতে মিরিক। দূরত্ব মাত্র ৫২ কিমি। যাওয়ার পথে গাড়ির জানালায় দেখবেন মন মাতানো দৃশ্য।

কোথায় থাবনে: হোটেল জগজিৎ। ফোন- 0354 224 3231