স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রাথমিক শিক্ষদের অনশন এগারো দিন পেরিয়ে যেতে চলেছে। এখনও হেলহোল নেই সরকারের। বিশিষ্ট মহল মনে করছে, ন্যায্য দাবিতেই পথে নেমেছেন প্রথমিক শিক্ষকরা। অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে বেতন বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য নয়। এমন অবস্থায় আমরণ অনশনে সামিল হয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। মঙ্গলবার তিনি নিজে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করেন এবং একটি লিখিত বিবৃতি দেন অধ্যাপক মীরাতুন নাহার।

কিছুদিন আগেই শিক্ষামত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন আন্দোলনকারী শিক্ষকদের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী আন্দোলনকারী সন্তুষ্ট করতে পারেননি। সমস্ত ঘটনাই অস্বাভাবিক লেগেছে অধ্যাপক মীরাতুন নাহারের কাছে। তিনি এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিবৃতিতে ন্যায্য বর্ধিত বেতনের প্রাপ্তি থেকে বঞ্চনার বিরুদ্ধে আমরণ অনশনরত প্রাথমিক শিক্ষকবৃন্দের উদ্দেশ্যে মীরাতুন নাহার লেখেন-

“আপনারা এগারো দিন ধরে আমরণ অনশন সম্ভব করে চলেছেন। আমি ব্যক্তিগত ভাবে আন্দোলনের এই প্রকার হাতিয়ার-ব্যবহার পছন্দ করি না, কেননা, এই হাতিয়ার ক্ষতিকারক হয় আন্দোলনকারীদের জন্য। অন্যদিকে, দায়িত্ব-কর্তব্য-দায়-দায়িত্ববোধ বিসর্জন দিয়ে যে রাজ্য সরকার নির্বিকার থাকে তাদের বোধ আরও দূরে সরে যায়। তবু আমি আজ পাশে এসে বসেছি প্রতীকী অনশন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কেবল অনশনকারীদের ‘মনোবল’ বাড়াতে এবং যদি কোন ভাবে রাজ্য সরকারের গণতান্ত্রিক জাগরণ ঘটে যায় সেই প্রত্যাশা মনে নিয়ে। রাজ্য সরকারের বিবেকের বন্ধ দরজা খুলুক আর জাতিগঠনের গুরুদায়িত্ব বহনকারী আমরণ অনশন করতে বাধ্য হওয়া প্রাথমিক শিক্ষকদের গুরুতর ‘দৈহিক ক্ষতি’ হওয়া বন্ধ হোক – এই শুভকামনা জানিয়ে গেলাম মঞ্চে উপস্থিত সকল পক্ষকে এবং সমগ্র রাজ্যবাসীকে।”

আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য করে বিশিষ্ট অধ্যপাক মীরাতুন নাহারের এমন বিবৃতি নানা মহলে আলোচিত হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ঘটনা সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলবে। কিন্তু, রাজ্য সরকার কি প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবি শেষ পর্যন্ত নেমে নেবে নাকি আন্দোলন গড়িয়ে চলবে আরও কয়েক দিন সেটাই এখন দেখার বিষয়।