কলকাতা: অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণার পর আলোড়ন পড়ে গিয়েছে ভারতে। সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে বিতর্কিত জমি পাবে হিন্দুরা এবং মুসলিমদের মসজিদ তৈরির জন্য জমি দেওয়া হবে অন্য জায়গায়। এই রায় কতটা যুক্তিযুক্ত? কী মনে করছেন অধ্যাপক মীরাতুন নাহার? তিনি মনে করেন, বিতর্কিত জমিতে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হলেই ভাল হত।

এই প্রসঙ্গে মীরাতুন নাহার এক বিবৃতিতে kolkata24x7-কে বলেন, “বাবরি মসজিদ-রামজন্মভূমি এই বিতর্কের অবসান ঘটাবার জন্য শীর্ষ আদালত যে রায় দিয়েছে, সেই রায়ের দুটো দিক আমি দেখতে পাচ্ছি। একটা সদর্থক অন্যটা নঞর্থক। সদর্থক দিকটি হল দীর্ঘদিন ধরে একটি সাজিয়ে তোলা বিবাদ বা বিতর্ক– তার অবসান ঘটানো জরুরি ছিল। তা না হলে দেশের পরিস্থিতি ভাল হত না।

দীর্ঘদিন ধরে যে মসজিদ ছিল সেটাকে ভেঙে মন্দির বানানোর যে প্রচেষ্টা এবং রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি, সেই রাজনৈতিক প্রচেষ্টা সার্থক হল রায়ের ফলে। কারণ, মসজিদ নয় মন্দির হবে। এই ধরনের রায় অনেকের মনে একটা বিভাজনের প্রক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। ফলে সেদিক থেকে দেখলে আমার মনে হয়েছে নিরর্থক রায়। শীর্ষ আদালতকে সম্মান জানিয়ে আমার যেটুকু মনে হয়েছে আমি সেটাই বললাম।

শীর্ষ আদালতকে নির্দেশ দেবার অধিকার আমার নেই। তবু দেশকে ভালবাসি বলে আমার বারংবার এই রায় শোনার পর মনে হয়েছে, বিতর্কিত জমিতে মসজিদ না বানিয়ে, মন্দির না বানিয়ে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয় এরকম একটি প্রতিষ্ঠান বানানোর কথা বললে কেমন হত? সেটা কি ভাল হয় না? তাহলে তৈরি বিতর্কেরও অবসান হয়ে যেত। সরাসরি দেশের মানুষের উপকার হত তাতে।

মন্দির-মসজিদ নিয়ে বিতর্ক করার সময় আমাদের নেই। দেশ-উন্নয়নের ভাবনা ভাবার জন্য আমরা ও দেশনায়করা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বিতর্কিত জমিতে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হলেই ভাল হত– এটাই আমার বিনীত অভিমত।

রায় সম্পর্কে দেশবাসীকে সজাগ করার জন্য আমাদের দেশের যিনি সর্বপ্রধান আসনে বসে আছে, যাঁর দিকে তাকিয়ে আছে দেশবাসী, তিনি একটা আবেদন জানিয়েছিলেন দেশবাসীর প্রতি– সবাই যেন শান্তি বজায় রাখে এবং এই রায়ের ক্ষেত্রে জয় পরাজয়ের কোনও প্রশ্ন ওঠে না। বক্তব্যটি শোনার পরে আমার মনে হয়েছে, এই মামলার ক্ষেত্রে জয় পরাজয়টাই আসল। যে কোনও মামলার ক্ষেত্রেই কোনও পক্ষের জয় হয়, কোনও পক্ষের পরাজয় হয়।

তিনি যে বলেছেন জয় পরাজয়ের প্রশ্নই ওঠে না– এই কথাটা আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। এটা আমার বোধগম্যের বাইরে, বোধবুদ্ধির বাইরে। মন্দির মসজিদ নিয়ে বিবাদ বাধিয়ে রাখা কোনও ভাবেই কল্যাণকর নয়। যাঁরা রামজন্মভূমি চাইছেন এই রায় যদি তাদের বিপক্ষে যেত তাহলে কি জয় পরাজয়ের প্রশ্ন উঠত না? তাহলে কি হিংসার বাতাবরণ তৈরি হত না? এই প্রশ্নটাই আমার মনে জাগছে।”