সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : তিনি সব সময়েই অন্য পথের পথিক। কত মৌলবাদী ফতোয়া জারি হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তিনি থেমে থাকেননি। আজকাল বড়দিনে কেক কাটলে কিংবা দুর্গা পুজোয় আনন্দে মেতে উঠলে তাঁকে আর কেউ কিছু বলে না। সম্ভবত সবাই বুঝে গিয়েছেন মীর আফসার আলি ভয়ে দমে যাওয়ার নয়। মীর এবার মুখ খুললেন মোদীর বিরুদ্ধে।

আবেদন জানিয়েছেন এবার জেগে উঠুন। করোনার ঢেউয়ে মানুষের হাহাকার। কেন্দ্রের ব্যবস্থা অনেকক্ষেত্রেই প্রশ্ন তুলছে। দেশের পরিস্থিতি ভালো নয় তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূমিকা নিয়েও বহু রাজনৈতিক প্রশ্ন যেমন উঠছে তেমন বহু চিকিৎসকও প্রশ্ন তুলেছেন। মীর আর প্রশ্ন করেননি। মোদীকে মীরের মিছড়ির ছুরি মার্কা আবেদন।

মীর যা লিখেছেন তা বাংলা করলে মানেটা দাঁড়ায়, ‘যখন বেঁচেছিলাম তখন খোঁজ নিতে আসেননি। মরে যাবার পরে শোক জানাতে চলে এলেন’। এই লাইন লিখে মীর বলতে চেয়েছেন এমন করার কোনও দরকার নেই। এরপরেই তিনি নরেন্দ্র মোদীকে বলেছেন, ‘নরেন্দ্র মোদীর কাছে আমার বিনীত নিবেদন, মানুষ মরে যাওয়ার পর কাঁদবেন না! বেঁচে থাকতেই দয়া করে তাঁদের জন্য কিছু করুন।”

প্রসঙ্গত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বাড়বাড়ন্তের জন্য রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় সমাবেশকে দায়ী করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে প্রকাশিত করোনা সংক্রান্ত সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “ভারতে কোভিড-১৯ সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রবল প্রভাবের পিছনে রাজনৈতিক সভা এবং ধর্মীয় জমায়েতের বড় ভূমিকা রয়েছে।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০-র অক্টোবরে প্রথম ভারতে করোনাভাইরাসের বি.১.৬১৭ প্রজাতিটি যা করোনার ভারতীয় রূপ বলে পরিচিতি পেয়েছে সন্ধান মিলেছিল। এর পর দ্রুত করোনাভাইরাসের বি ১.৬১৭ প্রজাতিটি সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। দু’দফার এই করোনাভাইরাসটি তার জিনগত চরিত্র বদলের কারণে বি.১.৬১৭ ভাইরাসটিকে ডাবল মিউট্যান্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। যার সংক্রমণ ক্ষমতা অন্য প্রজাতিগুলির তুলনায় অনেক বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক কর্মসূচি বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে চলা হয়নি বলেই দ্রুততার সঙ্গে ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রবল ভাবে সংক্রমণ ছড়িয়েছে ।

এর আগে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা বিষয়ক পত্রিকা ল্যানসেট-ও ভারতে ভয়াবহ করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার জন্য রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় সমাবেশের মতো অতি সংক্রামক বা সুপার স্প্রেডার অনুষ্ঠানগুলোকেই দায়ী করেছিল। ওই মেডিক্যাল জার্নাল তাদের সম্পাদকীয়তে সরাসরি নরেন্দ্র মোদী সরকারের সমালোচনাও করেছিল।

এদিকে দেশের বিরোধী দলগুলি ২০২০-র অক্টোবর মাস থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেশে করোনার দ্বিতীয় ঝাপটা আসা নিয়ে সতর্ক করেছিল। কিন্তু ভারত সরকার তার কিছু পরেই দেশকে করোনা মুক্ত ঘোষণা করে দেয়। দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন ঘোষণা করেন ভারত করোনা মুক্ত।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.