শুভেন্দু ভট্টাচার্য, কোচবিহার: যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে৷এই সত্যটাকে প্রমান করে দেখালেনকোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের ঘুঘুমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের রায় পাড়া এলাকার হোসনেয়ারা বিবি , রুবিলা বিবি , জোহরা বিবি ও ময়মনা বিবি। এই চার গৃহবধূ সম্পর্কে জা৷প্রায় ১২ বিঘা জমিতেবিনা কর্ষণে গম চাষ করে নজির গড়েছেন তাঁরা।

সহ কৃষি অধিকর্তা কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের উদ্যোগ ও সহোযোগিতায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মাধ্যমেই এই কাজ হয়েছে৷
এতদিন যে কাজে পুরুষদের একচেটিয়া আধিপত্ব ছিল এবার সেই কাজে দাপট দেখালেন নারীরা৷ সুগৃহিনীর মতোচার জা মিলে নিজেদের সংসারকে উর্বর করে আসছিলেন৷বাইরের জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিল খুবই কম৷ কিন্তু বাড়ির পুরুষরা শহরে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ায়চাষের কাজে ভাটা পরে। তাই বাড়ির বউরাই কাঁধে নিলেনজমিতে ফসল ফলানোরদায়িত্ব। সারাদিন ঘর সামলানোর ফাঁকেই জমির নিয়মিত পরিচর্যাকরেন তাঁরা।

হোসনেয়ারা বিবি বলেন “ বাড়ির পুরুষরা অন্য কাজ করেন শহরে, জমিতে ততটা সময় দিতে পারেননা৷তাই আবাদ চালু রাখতে আমরা চার জা মিলে চাষাবাদ করার সিদ্ধান্ত নিই৷ বাড়ির কাজের পাশাপাশি এই কাজেও আমরা সমান সময় দিই।
তাঁদের এই সাফল্য উৎসাহিত করেছে এলাকার অন্য মহিলাদেরও। তারাও চাইছেন এই ভাবেই স্বনির্ভর হতে। এদের মধ্যে অনেকেই আবার ঠিক করেছে আগামী বছর তাঁরাও চাষের কাজ শুরু করবেন।

সহধর্মিনীদের এই উদ্যোগে খুশি বাড়ির পুরুষরাও৷ তারা স্বীকার করে নিয়েছেন, কৃষিতে মহিলাদের পরক্ষোভাবে যোগদানের পরে সংসারে স্বচ্ছলতাএসেছে।

কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের সহ কৃষি আধিকর্তা রজত চট্টোপাধ্যায় জানান “ সরকারি প্রকল্পের মাধ্যে এই চার জনকে বিনা কর্ষনে গম চাষের প্রকল্পে নিয়ে আসা হয়েছিল, তাঁদের যাবতীয় প্রশিক্ষণ কৃষি বিভাগ দিয়েছে , বর্তমানে এই মহিলারা নিজেদের চেষ্টায় স্বাবলম্বী হয়েছেন৷সবচেয়ে বড় কথা পরিবারে সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতার অধিকারিণী হয়েছেন”।