স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করল এক নাবালিকা গৃহবধু। ঘটনাটি ঘটেছে সদর ব্লকের নগরবেরু বাড়ি এলাকায় জমাদার পাড়াতে। জামাই ও শ্বশুর বাড়ি পরিবারের অনান্যদের বিরুদ্ধে মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করল ওই নাবালিকার বাবা৷ ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।

নাবালিকার বাবা বিশু রায় পেশায় দিন মজুর৷ পরিবার সুত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিকে ফেল করে ওই নাবালিকা। এরপরেই পরিবারকে না জানিয়ে ওই অঞ্চলের হারুয়া ডাঙ্গা এলাকায় এক যুবকের সাথে পালিয়ে বিয়ে করে তিন মাস আগে৷ শ্বশুর বাড়ির তরফ থেকে ওই বিয়ে মেনেও নেওয়া হয়৷ তবে তার পর থেকেই শুরু হয় অত্যাচার৷

নাবালিকার বাড়ির অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে ওই নাবালিকার উপর অত্যাচার চলতে থাকে। লাগাতার অত্যাচার ও পণের জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি জানায় শ্বশুর বাড়ির লোকজন বলে অভিযোগ৷ তিন মাস ধরে অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে মঙ্গলবার সকালে বাপের বাড়িতে চলে আসে সে। পঞ্চাশ হাজার টাকা পণের কথা পরিবারকে জানালেও, আর্থিক অবস্থা ভাল না হওয়ায়, টাকার জোগাড় হয়নি৷

পরে ওই নাবালিকা বাপের বাড়িতেই একটি ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে৷ ঘটনায় খবর পেয়ে ছুটে আসেন নাবালিকার বাবা বিশু রায়। জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষনা করেন ওই নাবালিকাকে। মৃত নাবালিকার পরিবারের পক্ষ থেকে দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি জানানো হয়েছে৷ অভিযুক্ত স্বামী অমিত রায় ও তার পরিবারের লোকেরা বাড়ি থেকে পলাতক৷ অভিযুক্তদের খোঁজ চালাছে পুলিশ।