স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: পরিবারের বিপক্ষে গিয়ে নিজের বিয়ে রুখল ১৭-র এক কিশোরী৷ হাওড়ার দাশনগরের এই ঘটনায় রীতিমত চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে গোটা এলাকায়৷

অভাবের তাড়নায় পড়াশোনা মাঝপথে বন্ধ করে দিয়ে নাবালিকা মেয়ের বিয়ে ঠিক করে ফেলেছিলেন মা৷ ছাত্রীটি প্রথমে মায়ের মুখের উপর কিছু বলতে না পারলেও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সে নিজেই দ্বারস্থ হয় দাশনগর থানায়। একাদশ শ্রেণিতে পাঠরতা ছাত্রীর আর্জিতে সন্ধ্যায় ছাত্রীর বাড়িতে হাজির হয় পুলিশ। ছুটে আসেন স্থানীয় কাউন্সিলরও।

আরও পড়ুন- নারী ও শিশু পাচার রুখতে সচেতনতা শিবির জলপাইগুড়িতে

জানা গিয়েছে, দাশনগরের কোণা ধাড়াপাড়ার বাসিন্দা পার্বতী রায় সম্প্রতি তাঁর মেয়ের বিয়ে ঠিক করেন। আগামী নভেম্বর মাসেই এই বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। স্বামীর মৃত্যুর পর পরিচারিকার কাজ করে মেয়েকে নিয়ে কোনও মতে দিন গুজরান করেন পার্বতীদেবী। এরই মধ্যে একাদশ শ্রেণীতে মেয়ের পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ায় মেয়ের বিয়ে দিয়ে দায় মুক্ত হতে চাইছিলেন তিনি।

কিন্তু এই বিয়ের হাত থেকে মুক্তি পেতে পড়াশোনা করতে চাওয়া ছাত্রী শেষমেষ পুলিশের শরণাপন্ন হয়। এখন পুলিশ ও স্থানীয় কাউন্সিলরকে পাশে পেয়ে মেয়ের বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন পার্বতীদেবী। মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। হাওড়া পুরসভার ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ত্রিলোকেশ মণ্ডল এই পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। সকলের সাহায্য পেয়ে পড়াশোনা করে বড় হতে চায় সপ্তদশী ওই ছাত্রী৷