স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: কন্যাশ্রী প্রকল্পের সাহায্যের জন্য ষষ্ট শ্রেণীর এক ছাত্রী তার পুরনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট চাইতে গিয়েছিল৷ কিন্তু সেখানে এই অভিজ্ঞতার শিকার হতে হবে, তা বোধহয় ভাবতে পারেনি সে৷

প্রধান শিক্ষকের হাতে চরম হেনস্থার শিকার হতে হল তাকে৷ সোমবার এই ঘটনার জেরে অভিযুক্ত ওই প্রধান শিক্ষককে স্কুলের মধ্যেই দীর্ঘক্ষন আটকে রেখে তাকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাল উত্তেজিত এলাকাবাসী । পরে সোমবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিং এবং নোয়াপাড়া থানার পুলিশ পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে৷

ওই স্কুল ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে নোয়াপাড়া থানার পুলিশ অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক কাঞ্চন দাসকে আটক করে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার গারুলিয়া বিপিন বিহারী গাঙ্গুলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে । সোমবার ওই প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষকের হাতে হেনস্থার শিকার হয় গারুলিয়ারই বাসিন্দা ষষ্ট শ্রেণীর ওই ছাত্রীকে৷

ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক কাঞ্চন দাসের বিরুদ্ধে অসংখ্য দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। নিগৃহীতা ওই স্কুল ছাত্রী চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত গারুলিয়া বিপিন বিহারী গাঙ্গুলী প্রাইমারী স্কুলে পড়েছে । চতুর্থ শ্রেণী পাশ করার পর ওই স্কুল ছাত্রী বর্তমানে শ্যামনগর ব্রহ্মময়ী বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে৷

কন্যাশ্রী প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে তার প্রয়োজন ছিল পুরোন স্কুলের ট্রান্সফার সার্টিফিকেট৷ সেই সার্টিফিকেট আনতে সোমবার ওই প্রাইমারী স্কুলে যায়৷ অভিযোগ, বিপিন বিহারী গাঙ্গুলী স্কুলের প্রধান শিক্ষক ওই ছাত্রীর থেকে ৬৫০ টাকা ঘুষ দাবী করে৷ ওই ছাত্রী অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় সে ঘুষ দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয়৷

এরপরই ওই শিক্ষক ষষ্ট শ্রেণীর ওই ছাত্রীকে জানিয়ে দেয় স্কুলে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট নেই, এখন তিনি তা দিতে পারবেন না। এরপরই ওই স্কুল ছাত্রীকে কাঞ্চন বাবু তার ঘরে শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ। ওই ছাত্রী বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানালে উত্তেজনা ছড়ায় ওই স্কুলে৷ অভিযুক্ত ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘেরাও করে রাখে এলাকাবাসী।

তবে প্রধান শিক্ষক গোটা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন৷ তিনি জানান,বর্তমানে কাউকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট দেবেন না৷ কারণ স্কুলে ওই শংসাপত্র মজুত নেই। এদিকে ঘটনাস্থলে আসেন নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিং৷ তিনি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন স্থানীয় বাসিন্দাদের। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নোয়াপাড়া থানার পুলিশ৷ অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়৷