স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রতিবেশীর পায়রা চুরির অপবাদ তো জুটেইছিল৷ তার উপর প্রকাশ্যে সবার সামনে অকথ্য গালিগালাজ এবং চড়া মারার অপমান সহ্য করতে পারেনি কিশোরটি৷ প্রতিবেশীর এহেন অপমান সইতে না পেরে নিজেকে শেষ করে দিল সে৷
মঙ্গলবার দুপুরে কসবা নস্করহাট পূর্বশ্রী পল্লিতে এই ঘটনা ঘটেছে৷ ওই রাতেই ঘরের মধ্যে থেকে সানি চৌধুরী (১২) নামে ওই কিশোরের ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় পরিবারের সদস্যেরা৷ পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয়৷

এই ঘটনার পরে কসবা থানায় রঞ্জন সেন, রণজিৎ সেন এবং গৌরি সেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন মৃত কিশোরের বাবা শত্রুঘ্ন চৌধুরী৷ তাঁদের অবশ্য অভিযোগ, এই অভিযুক্তেরা সানিকে খুন করে ঝুলিয়ে দিয়েছে৷ কারণ যে উচ্চতা থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেখানে সানির পক্ষে ওঠা সম্ভব নয়৷ পাশাপাশি, ঘটনার সময় ঘরের মধ্যে খাবারের থালা পড়েছিল৷ হাতে সেই খাবারও লেগেছিল৷ খাবার খারওয়ার সময়ই তাকে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের৷ পুলিশ অভিযোগ পেয়ে কিশোরকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে রঞ্জনকে গ্রেফতার করেছে৷ ঘটনার পর থেকে আরেক অভিযুক্ত রণজিৎ পলাত থাকায় তাকে গ্রেফতারের দাবিতে বুধবার সন্ধায় পিকনিক গার্ডেন রোডে সানির মৃতদেহ আটকে অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷পুলিশি নিস্ক্রিয়তার অভিযোগে চলে বিক্ষোভ৷ উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করায় দুই পুলিশ কর্মী জখম৷এর পরেই অবশ্য রণজিতকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷

 যা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত সেই পায়রা চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে কিশোরের পরিবার৷ তাদের দাবি, এমন কিছু হলে তারা জানতে পারতেন৷