স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সব সময় রাজনীতির কচকচানি৷ প্রতিপক্ষকে মেপে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ৷ কঠীন, কঠোর বাস্তবের মুখোমুখি হন ওঁরা৷ কিন্তু ভাই ফোঁটার দিনে ওঁদের দেখা গেল একেবারে অন্যভাবে৷ রাজ্যমন্ত্রীসভার তিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টাপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিমরা ফোঁটা নিলেন বোনেদের কাছ থেকে৷

ছোটবেলা থেকে বোনেদের কাছ থেকে ফোঁটা নিয়ে অভ্যস্থ পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মখোপাধ্যায়৷ আজও তার অন্যতা হয়নি৷ রালের নিয়মে বদলে গিয়েছে স্থান৷ তাতে অমলিন হয়নি ভাই ফোঁটার আনন্দ৷ বালিগঞ্জে বোনের বাড়িতে গিয়ে ফোঁটা নিলেন সুব্রতবাবু৷ ধাম, দূর্বা সহযোগে দাদার মঙ্গল কামনা করলেন বোনেরা৷ মিষ্টির সঙ্গে উপহারের তালিকায় ছিল সুব্রতবাবুর প্রিয় ফল আতা৷ ফোঁটা নিয়ে সুব্রতবাবু বললেন, ‘‘বছরের এই দিনটায় কোনও কাজ রাখি না৷ কোনও এক টানেই নিয়ম করে প্রতি বছর আসি বোনেদের বাড়িতে৷ এই দিনের সঙ্গে অন্য কোনও দিনের তুলনা হয় না৷’’

বোনের দেওয়া গোলাপি পাঞ্জাবি পড়ে আসনে বসে বিদ্যুৎ মন্ত্রী৷ বেজে উঠল শঙ্খ ধ্বনী৷ শোভনবাবুর কপালে আঙুল ঠেকিয়ে বোনের মঙ্গল কামনা, ‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা যোমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা৷’ সামনে সাজানো নানা ধরনের মিষ্টি৷ দিদিন শরীর খারাপ৷ তাই আসতে পারেন না শোভনবাবুর বাড়িতে৷ তাই ছোট বোনের থেকে সকালে ফোঁটা নিয়ে বিকেলে যাবেন বড় দিদিন থেকে ফোঁটা নিতে৷ রাজনীতি বা মন্ত্রীত্বের কাজে নয়৷ শোভনবাবু আজ ব্যস্ত দিদি বোনদের ফোঁটায়৷ দুপুরে বাড়িতে আয়োজন রয়েছে ভুরিভোজের৷ শোভনবাবু বললেন, ‘‘পুজো গেলেই এই দিনটারই অপেক্ষা করি৷ উপহার আগে থেকে নিজে পছন্দ করে কিনে আনি৷’’

নেত্রীর কথায় ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার৷’ ভাইদের মঙ্গল কামনায় ফোঁটা এখন আর কেবল হিন্দুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়৷ তার ব্যাপ্তি সর্ব সম্প্রদায়ে ছড়িয়ে পড়েছে৷ পাঞ্জাবি, পাজামা পড়ে সকাল থেকেই পোঁটা নিতে তৈরি নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম৷ বাড়িতে বোন আসতেই আনন্দের বহর বাড়ল কয়েকগুণ৷ নিলেন ফোঁটা৷ উৎসব বেড়া ভাঙল ধর্মের৷ তৈরি হল সম্প্রীতির আবহ৷ মিষ্টি মুখে তখন শুধুই ভোজের পালা৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.