সঞ্জয় কর্মকার, বর্ধমান: আমন চাষে জল সঙ্কট মেটাতে গত ২৯ অক্টোবর বর্ধমান জেলায় মন্ত্রীরা বৈঠক করার পর মঙ্গলবার জেলার বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখলেন রাজ্যের জলসম্পদ উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র সেচ দফতরের মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র। এদিন তিনি বর্ধমানের হৈড় গ্রাম এবং আউশগ্রাম ব্লকের কুরঞ্জি গ্রামের কয়েকটি ধান জমি ঘুরে দেখেন। এই সমস্ত এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে সরকারি উদ্যোগে পাম্প লাগিয়ে চলতে থাকা জলসেচের কাজ খতিয়ে দেখেন তিনি।

যদিও সরকারের ভূমিকায় খুশি নয় অধিকাংশ চাষিই। এদিনও তাঁরা চাষের জল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, এই মরশুমের আমন চাষে জল সঙ্কট এবং তাতে ধানের ক্ষতির বিষয়ে আগাম সতর্ক করেছিলেন কল্যাণী বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিজ্ঞানীরা। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে কৃষি বিজ্ঞানীদের এই সতর্কবার্তা বর্ধমান ও বীরভূম জেলার কৃষকদের জানানো হলেও কৃষকরা এই সতর্কবার্তায় কান দেননি। পরিবর্তে তাঁরা চিরাচরিত চাষেই আবদ্ধ হয়ে থাকেন। আর তার জেরেই চলতি মরশুমে আমন ধানে এই ক্ষতির মুখে পড়েছেন বর্ধমান জেলার চাষিরা।

জানা গিয়েছে, গত অগাস্ট মাসে বন্যায় ফসলের ক্ষতির বিষয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কৃষি বিজ্ঞানীদের কাছে পরামর্শ চাওয়া হয়। আর তারপরেই কল্যাণীর বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিজ্ঞানীরা রাজ্য সরকারের কাছে বন্যা পরবর্তী চাষ সম্পর্কে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠান।  গত ৪ অগাস্ট কৃষি বিজ্ঞানীরা যে রিপোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে পাঠান তা ছিল কার্যত কৃষকদের কাছে সতর্ক বার্তাই। বলা হয়েছিল, বন্যার পর কোনোভাবেই বর্ধমান এবং বীরভূম জেলায় লাল স্বর্ণের চাষ করা না হয়। পরিবর্তে তাঁরা শতাব্দী এবং ললাট এই জাতের চাষ করার পরামর্শ দেন। কারণ লাল স্বর্ণ চাষে যেমন সময় লাগে বেশি তেমনি সেচের জলও লাগে বেশি। বিজ্ঞানীরা আগাম আঁচ করেছিলেন বন্যা পরবর্তী সময়ে জল সংকট দেখা দিতে পারে। তাই কম সেচে অধিক ফলনের জন্যই বিকল্প এই ধান চাষের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কৃষি বিজ্ঞানী মৃত্যুঞ্জয় ঘোষ জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে  ২ সপ্তাহেই চারাগাছ তৈরি করা সম্ভব। লাল স্বর্ণের ক্ষেত্রে যেখানে লাগে প্রায় দ্বিগুণ সময়। শুধু এটাই নয়, কৃষি বিজ্ঞানীরা আরও জানান, বন্যায় ক্ষতি জনিত কারণে বর্ধমান জেলার ভাতার, মঙ্গলকোট, মন্তেশ্বর, মেমরি, কালনা  প্রভৃতি এলাকায় ধানের পরিবর্তে বিকল্প চাষ করার কথা। ফলে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিজ্ঞানীদের এই সতর্কবার্তা না শোনার জন্য এবং বর্ধমান জেলার কৃষকদের চিরাচরিত ধারণার বদল না হওয়াতেই আমন চাষে এই বিপর্যয় বলে মনে করছেন তাঁরা। বর্ধমান জেলার কৃষি উপ অধিকর্তা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই বিষয়টি তাঁরা ব্লক স্তরে চাষিদের মধ্যে প্রচারও করেছিলেন কিন্তু চাষিরা তা শোনেননি। এদিন সেচমন্ত্রী কৃষিবিজ্ঞানীদের এই পরামর্শের প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে চাষিদের জানালেও চাষিরা বুঝতে পারেননি। তিনি বলেন, এব্যাপারে চাষিদের দোষ দেওয়া যায় না। কারণ চিরাচরিত ধারণা এইভাবে হঠাৎ বদল করা যায় না। এজন্য সময় লাগবে। মন্ত্রী জানান, ক্ষতিগ্রস্থ সমস্ত এলাকাতেই সেচের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। ক্ষতির আর কোনও সম্ভাবনা নেই। যেটুকু ক্ষতি হবে তা পুষিয়ে দেওয়া হবে আগামী বোরাতে। যদিও এদিন আউশগ্রামে মন্ত্রী চলে আসতেই সেখানকার চাষিরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা জানান, মরণকালে হরিনাম করতে এসেছিলেন মন্ত্রী। এমনকি যেভাবে জল দেওয়া হচ্ছে তাতে সিংহভাগ জমিতেই জল পৌঁছাচ্ছে না। আর যে অংশে জল পৌঁছাবে সেই জমিতেও ফলন ঠিক হবে না।  কারণ অনেক দেরী হয়ে গেছে। ফলে আমনের ক্ষতি হচ্ছেই। পাশাপাশি এই মরশুমে লাল স্বর্ণ না লাগানোর সরকারী সতর্কতা বিষয়ে চাষীরা কিছুই জানেন না বলে তাঁরা জানিয়েছেন। এদিন মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন, বর্ধমান জেলার সভাধিপতি দেবু টুডু।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.