স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: সাধারণ মানুষের জন্য প্রথমবার জেলা প্রশাসন এবং মিষ্টি ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে শুরু হয়েছে মিষ্টি উৎসব। ১৬ থেকে ২২ জানুয়ারি বর্ধমানের ২ নং জাতীয় সড়কের উল্লাস মোড়ের কাছে মিষ্টি হাব প্রাঙ্গণে চলবে এই উৎসব৷ বুধবার রাজ্যের ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প দফতরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ এই মিষ্টি উৎসবের উদ্বোধনে আসেন৷ কিন্তু তিনি এসে যা দেখেন তাতে হতাশই হন৷ কারণ বেশিরভাগ মিষ্টি স্টলই বন্ধ৷

যদিও বা অনেক আগে থেকেই প্রশাসনিকভাবে বুধবার থেকে মিষ্টি উৎসবের বিষয়টি জানানো হয়। আর তাই এদিন বর্ধমানে প্রথম মিষ্টি উৎসবের উদ্বোধন করতে এসে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ উপস্থিত জেলা শিল্পকেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজারকে জানিয়ে দিলেন যাঁরা স্টল নিয়ে বন্ধ রেখেছেন খুলছেন না, তাঁদের হাত থেকে স্টল নিয়ে অন্যদের হাতে দিয়ে দিন। তাঁর প্রশ্নের জবাবে স্বপন বাবু বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প বর্ধমানের এই মিষ্টি হাব। প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় করে এই মিষ্টি হাব তৈরি করা হয়েছে। তাই সকলকে এই মিষ্টি হাব চালুর চেষ্টা করতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের মিষ্টি হাবকে চাঙ্গা করতে বুধবার থেকে মিষ্টি হাব প্রাঙ্গণেই শুরু হল প্রথম বছর মিষ্টি উৎসব। এদিন এই উৎসবের সূচনা করেন রাজ্যের ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প দফতরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। এছাড়াও হাজির ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া, জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব, জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, অতিরিক্ত জেলাশাসক অরিন্দম নিয়োগী, জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক কুশল চক্রবর্তী প্রমুখরা।

প্রায় বছর দুয়েক আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বর্ধমানের এই মিষ্টি হাবের উদ্বোধন করেন। দুটি তলায় মোট ২৫ টি স্টল রয়েছে। এদিন মিষ্টি উৎসবের পাশাপাশি দ্বিতীয় দলের ১০টি স্টলেরও উদ্বোধন হয়। মিষ্টি উত্সব উপলক্ষে বর্ধমানের সীতাভোগ, মিহিদানা, ল্যাংচার পাশাপাশি আরও কয়েকটি মিষ্টি ইতিবৃত্ত সংকলতি প্যাভিলিয়নের আয়োজন করা হয়েছে।

স্বপন বাবু বলেন, মিষ্টি, পিঠেপুলি এগুলি সবই ক্ষুদ্র শিল্প। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই এগুলিকে শিল্পের মর্যাদা দিয়েছেন। মিষ্টি উৎসবে থাকছে মিহিদানা, সীতাভোগ, রসগোল্লা, জলভরা সন্দেশ সবই। মিষ্টির পাশাপাশি থাকছে বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকস, বিরিয়ানি সহ অন্যান্য খাবারের ব্যবস্থাও। থাকছে মনোরঞ্জনের জন্য বাউলগান ও বিভিন্ন ধরণের প্রতিযোগিতা। এদিনই স্কুলের ছেলেমেয়েরা অংশ নেয় মিষ্টি হাব নিয়ে বসে আঁকো প্রতিযোগিতায়। ক্রেতাদের আকর্ষণের জন্য থাকছে বিশেষ ছাড়। ক্র্যাচ কার্ডের মাধ্যমে মিলবে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়। উৎসব চলবে ২২ শে জানুয়ারি পর্যন্ত।

এদিন জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মিষ্টি উৎসব উপলক্ষে যাতে সাধারণ মানুষের কোনও সমস্যা না হয় সেই জন্য বাড়তি পুলিশি নিরাপত্তা থাকবে এই উৎসব প্রাঙ্গণে। মুখ্যমন্ত্রী এই মিষ্টি হাব চালু করলেও ক্রেতার অভাবে কার্যতই তা মুখ থুবড়ে পড়ে। এদিন মিষ্টি হাবের দ্বিতলের উদ্বোধন হওয়া এবং সেখানে মিষ্টির দোকানের পাশাপাশি অন্যান্য খাবারের দোকান তৈরি হওয়ায় প্রশাসনের আশা আস্তে আস্তে তা সাধারণ মানুষের মনরঞ্জন ঘটাবে।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও