স্টাফ রিপোর্টার, দিঘা: ভ্রমণ আর বিনোদন মানেই দিঘা৷ এবার আর তা নয়। এবার দিঘায় বিজ্ঞানী গড়ে তোলার কাজ শুরু হবে। রাজ্যে বিজ্ঞানমনস্ক ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। স্কুলজীবনে পড়াশোনার ফাঁকে কেউ বানাচ্ছে ড্রোন, তো কেউ রোবট। কেউ বা আবার বানাচ্ছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি।

তবে সেই বিজ্ঞানচর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গিয়ে সিংহভাগ পড়ুয়াই হোঁচট খায় আর্থিক অস্বাচ্ছন্দ্যের কারণে। ফলে স্কুল জীবনের পাট চুকিয়ে কলেজে পা দিতে দিতেই অনেকে মাথা থেকে বিজ্ঞানমস্কতার ভূত ঝেড়ে ফেলে। চাকরি জোটাতে সাধারণ কোনও বিষয় নিয়ে পড়তেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তবে এবার পরিস্থিতি পালটাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই সকল পড়ুয়া যাদের ছোটো থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে ঝোঁক তারা এখন থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণায় ডুবে থাকতে পারবে।

গবেষণার মাধ্যমে বাস্তব রূপ দিতে পারবে তাদের বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তাভাবনাগুলিকে। এমনই সুযোগ করে দিঘা সায়েন্স সেন্টার। ছোটদের উদ্ভাবনী ভাবনাকে কাজে লাগাতে মঙ্গলবার থেকে এই বিজ্ঞান কেন্দ্রে চালু হল ইনোভেশন হাব৷ রোবটিক্স, ইলেকট্রনিক্স, পদার্থ বা জীববিদ্যা বা বিজ্ঞানের যে কোনও বিষয়ে স্বাধীন গবেষণা করতে পারবে ছোটরা৷ ২০১০-২০, এই সময়কে ঘোষণা করা হয়েছে ‘উদ্ভাবনের দশক’ হিসেবে৷ সায়েন্স সেন্টারে সেই ইনোভেশন হাবের উদ্বোধন করেন রাজ্যর পরিবেশ ও পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলোজিক্যাল মিউজিয়ামের অধিকর্তা ভি এস রামচন্দ্রন, দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের প্রশাসক সুজন দত্ত, দিঘা বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রকল্প আধিকারিক নিরঞ্জন গুপ্ত প্রমুখ। উদ্বোধনের পরই ল্যাবে ঘুরে দিঘার খুদেদের সৃজনশীলতা দেখেন মন্ত্রী আধিকারিকরা।

মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এখানে বিকশিত হবে স্থানীয় প্রতিভা৷ প্রযুক্তির দৌলতে দিন বদলাচ্ছে, মানুষও বদলে যাবে৷ অনেকেই বিজ্ঞামনস্ক হলেও অর্থাভাবে তার চিন্তাভাবনার বাস্তবায়ন ঘটাতে পারে না। তবে এবার থেকে এই হাবে তা সম্ভব। বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলোজিক্যাল মিউজিয়ামের অধিকর্তা ভি এস রামচন্দ্রন জানান, এই ভাবে যে কোনও ছাত্রই তাদের চিন্তা-ভাবনা নিয়ে গবেষণা করতে পারবে। তাদের সাহায্য করতে থাকবে মেন্টর। এছাড়াও সেই গবেষণর জন্য যা কিছু প্রয়োজন তাও দেওয়া হবে হাবের তরফে।

বিজ্ঞানকেন্দ্রগুলিকে এতদিন প্রদর্শনী কেন্দ্র হিসেবেই দেখা হত। তবে এবার এই কেন্দ্রটিকে অত্যাধুনিকভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে ইনোভেশন হাব। যেখানে ছাত্রছাত্রীরা তাদের মস্তিস্কপ্রসূত চিন্তা-ভাবনা বাস্তবায়নের সুযোগ মেলায় খুশি স্থানীয় স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। এদিন দিঘা বিজ্ঞান কেন্দ্রের জন্য একটি বাসের অনুমোদন করেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।