হাওড়া:  কয়েকদিন আগেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আমফানে ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, দলকে সত্যিই যদি দুর্নীতিমুক্ত করতে হয় তা হলে সবাইকে ধরতে হবে। শুধু চুনোপুঁটি ধরলেই হবে না, রাঘববোয়ালদের ধরতে হবে।

মঙ্গলবার হাওড়ায় এক অনুষ্ঠানে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার মনে হয় এসব কথার জবাব দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। যেটা বলার আমি খুব স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছি। সেখান থেকে আমি কোথাও নড়িনি। দলকে বলে দিয়েছি এই যে জিনিস হচ্ছে সেটা বন্ধ করতে হবে। দল নিশ্চিতভাবেই ব্যবস্থা নেবে। আমি আমার মতো করে আমার বক্তব্য বলেছি। আমি এখনও বলব দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে লড়াই আমার নেত্রী করছেন, আমিও তাঁর একজন সহকর্মী হিসাবে এ লড়াই শুরু করেছি।’

রাজীববাবু আরও বলেন, ‘কার কোথায় কি গুরুত্ব আছে সেটা বাংলার মানুষ জানেন। সেটা আমাকে বলতে হবে না। বাংলার মানুষ জানেন কে কি রকম।’ এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে সাংবাদিকেরা এদিন প্রশ্ন করেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কি যাবতীয় বিতর্কের অবসান ঘটেছে?

এর উত্তরে ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কোনওদিন কোনও বিতর্ক ছিলও না। আর অবসান ঘটারও কিছু নেই। এটা আমাদের দলীয় ব্যাপার। দলীয় স্তরেই আমরা দলীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করি। সংবাদমাধ্যমের সামনে আমরা আলোচনা করি না।’

অন্যদিকে এদিন অন্য একটি প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে পুরমন্ত্রী বলেন, ‘মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি ঠিক নয়। বিজেপি এটা নিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমাদের একজন কলিগ ( বিধায়ক ) মারা গেছেন। বিধানসভাতে আমরা একসঙ্গে ছিলাম। কিন্তু মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক নয়। উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট সহ বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্যে যা হয় এই রাজ্যে তা হয় না বলেই মন্তব্য রাজ্যের মন্ত্রীর।

তাঁর দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত ব্যবস্থা এখানে হয়। আইনের শাসন পশ্চিমবঙ্গে আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নিরপেক্ষ শাসন ব্যবস্থা এখানে আছে।’

উল্লেখ্য, এদিন দুপুরে বনমহোৎসবের রাজ্যস্তরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় হাওড়ার বালি দুর্গাপুর, নিশ্চিন্দার সিসিআর ঝিল সংলগ্ন উদ্যানে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসাবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। এছাড়াও বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়া, উত্তরপাড়ার বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল সহ জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকেরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।