সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : এই বাইপ্যাপ মেশিনের দ্বারা কিছুটা হলেও শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারে দেবস্মিতা, ঋতেশরা। নিয়মিত স্কুলে যেত ওরা। হুইল চেয়ারে বসেই রিতেশ এখনও স্বপ্ন দেখে বড় ব্যবসায়ী হওয়ার, দেবস্মিতা স্বপ্ন দেখে অ্যাস্ট্রনট হওয়ার। কিন্তু করোনার আঘাতে সমস্ত বন্ধ। দিনে দিনে বাড়ন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ভয় ধরাচ্ছে ওঁদের মা বাবার মনে। এই অবস্থায় বাইপ্যাপ মেশিনের খুব প্রয়োজন। কে দেবে?

রীতেশের বাবা পেশায় ছোট ব্যবসায়ী। দেবস্মিতার টেলিফোন দফতরের কর্মী। এখন বিএসএনএলের অবস্থা সবার জানা। এমন অবস্থায় সন্তানদের এই মারন রোগ থেকে দূরে রাখতে বাইপ্যাপ মেশিনের প্রয়োজন রয়েছে। যা কিনতে দরকার বিপুল অর্থের। চেয়েও কিনতে পারছেন না ওঁরা। আসলে ওদের রোগটা শ্বাসকষ্টের। পোশাকি নাম স্পাইনাল মাসকুলার আর্থ্রফি। ইনহেলার ছাড়া বাঁচা মুশকিল। করোনাভাইরাস যদি বাগে পায় তাহলে! ঘরেই বন্দী রয়েছে ছোট্ট ঋতেশ, দেবস্মিতা।

চিকিৎসার সুযোগও যে তেমন নেই। লাখের মধ্যে একটি বাচ্চা হয়তো জীবন ফিরে পায় এই মারণ রোগে। প্রতি ১০হাজার মধ্যে একটি শিশু আক্রান্ত হয় এই রোগে। করোনার মতন এই রোগও প্রত্যেকটি অরগ্যানকে ফেল করিয়ে দেয়। এই বাইপ্যাপ মেশিনের দ্বারা কিছুটা হলেও শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারেন দেবস্মিতা ঋতেশরা। চিকিৎসা করাতে করাতে সর্বহারা দুই পরিবার। প্রত্যেক মাসে প্রায় প্রয়োজন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। তাই রীতিমত আশঙ্কিত বাবা মা রা। দরকার ওই মিনি ভেন্টিলেটর।

কিন্তু দুজনের পরিবারের সেই অর্থে সামর্থ নেই। মিনি ভেন্টিলেটার অর্থাৎ বাই প্যাপের এক একটার দাম লাখখানেক টাকা। এদিকে করোনার এই কঠিন সময়ে ওদের এই প্রটেকশন খুব জরুরী। অনেকের কাছে দরবার করেছেন। শেষমেষ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কৃষি বিপণন ঠিকাদার সমিতির সবাই মিলে রকারি দপ্তরের মন্ত্রী তপন দাস গুপ্তের হাত দিয়ে।বলা ভালো দুটি ফুসফুস তুলে দিলেন ওদের হাতে।

রাজ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে কনটেইনমেন্ট জোনগুলিতে গতকাল সন্ধ্যা থেকে লকডাউন চলছে। তার পরেও সামগ্রিক করোনা-চিত্র মোটেই সুখকর নয়। বরং আগের থেকে পরিস্থিতির অবনতির অশনি সংকেত পাওয়া যাচ্ছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের সাম্প্রতিকতম পরিসংখ্যানে। এর মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার অবস্থা আরও খারাপের দিকে মোড় নিচ্ছে।

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলায় আরও ১ হাজার ১৯৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৭ হাজার ১০৯ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫২২ জন সুস্থ হয়ে ওঠায় এখনও পর্যন্ত মোট করোনাজয়ীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৭ হাজার ৩৪৮ জন। সুস্থতার হার দাঁড়িয়েছে ৬৩.৯৯ শতাংশ। আরও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে ৮ হাজার ৮৮১ জন। এ দিকে, গত ২৪ ঘণ্টা বাংলায় করোনায় প্রাণ গিয়েছে আরও ২৬ জনের। ফলে এখনও পর্যন্ত মোট ৮৮০ জন করোনার বলি হলেন।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ