স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: রাজ্য শ্রম দফতরের উদ্যোগে শুরু হল শ্রমিক মেলা৷ রবিবার বাঁকুড়া রবীন্দ্রভবনে মেলার সূচনা করেন শ্রম মন্ত্রী মলয় ঘটক। এদিন বিভাগীয় মন্ত্রী নথিভূক্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হাতে বিভিন্ন প্রকল্পের চেক তুলে দেন।

মন্ত্রী মলয় ঘটক এদিন তাঁর বক্তব্যে পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকার শ্রমিকদের জন্য সেভাবে কিছুই করেনি অভিযোগ তুলেছেন৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মা মাটি মানুষের সরকার কি কি কাজ করেছে তার খতিয়ান তিনি তুলে ধরেন।

পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিকের বন্ধু দাবি করা ৩৪ বছরের সরকার সেভাবেই কিছুই করেনি৷ শ্রমিক স্বার্থ সম্পর্কিত বেশ কিছু প্রকল্পে ২০০০ থেকে ২০১১ সালে ওই সরকার অনুদান হিসেবে খরচ করেছিল মাত্র ন’কোটি টাকা। আর রাজ্যে পালা বদলের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে ২০১১ থেকে ২০১৮ আর্থিক বছরে অনুদানের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১৩০০ কোটি টাকা।

এই তথ্য হাজির করেই মন্ত্রী মলয় ঘটক উপস্থিত শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই একটা মাত্র তথ্য দিয়েই আপনারা বিচার করুন কে আপনাদের প্রকৃত বন্ধু। এরপর বামফ্রন্ট সরকারের দেনা প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই সাত বছরে রাজ্যে যা উন্নয়ন হয়েছে দেশের কোন মুখ্যমন্ত্রী তা পারেননি।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধান চন্দ্র রায়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, উনি ১৪ বছর সময় পেয়ে ছিলেন। মাথার উপর বামফ্রন্টের চাপানো দেনা ছিল না। কিন্তু আমাদের মুখ্যমন্ত্রী পূর্বতন সরকারের দেনা বাবদ ৪৮ হাজার কোটি টাকা সুদ দিয়েও যে উন্নয়ন করছেন তা দেশে নজির বলেও তাঁর দাবি।

এদিন নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্র সরকারকেও এক হাত নেন তিনি। তিনি বলেন, নীরব মোদি, ললিত মোদি, বিজয় মালিয়ারা কোটি কোটি টাকা লুঠ করে বিদেশে চলে গিয়েছে। টাকাও ফেরেনি, ওনারাও ফেরেননি। বিদেশী ব্যাংকে জমা টাকা উদ্ধার তো হয়নি৷ বরং তা আরও ৫২ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে।

গত লোকসভা ভোটের আগে বেকারদের কর্মসংস্থান বিষয়ে বিজেপির প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেন, কোথায় কেন্দ্রীয় সরকার নিয়োগ করেছে। তার জবাব দিতেই হবে। বরং একের পর এক রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানা বন্ধ হয়েছে। আগামী লোকসভা ভোটে মানুষের যোগ্য জবাব দেবেন বলেই তিনি মনে করেন।

এদিন মন্ত্রী মলয় ঘটক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা, বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডি, অরুপ খাঁ, পুরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা।