লাহোর: ‘আমার সঙ্গে আসুন। আপনাকে নিয়ে যাই কলকাতার মিনি পাকিস্তানে।’ পাক সাংবাদিকের উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গের পুরমন্ত্রীর করা এহেন মন্তব্য ঘিরে উত্তাল হয়েছিল গোটা দেশ। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিদায়ী মন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে আসরে নেমেছিল বিরোধীরাও। পাঁচ বছর ক্ষমতায় থেকে তৃণমূল-কংগ্রেস কলকাতাকে পাকিস্তান বানিয়ে ফেলেছে বলেও অভিযোগ করেছিলেন অনেকে। কিন্তু, পাকিস্তানের মাটিতে দীর্ঘ ৭০বছর ধরে বিরাজমান রয়েছে ‘মিনি ইন্ডিয়া’। পাক পঞ্জাবের লাহোরেই রয়েছে এক টুকরো ভারত। উক্ত এলাকায় প্রবেশ করলেই আপনাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বলা হবে, ‘পাকিস্তানের মিনি ভারতে আপনাকে স্বাগত’।

আরও পড়ুন :কলকাতাতেই আছে মিনি-পাকিস্তান: ফিরহাদ

১৯৪৭সালে স্বাধীনতার সময়(আরও ভালোভাবে বললে দেশভাগের সময়) থেকেই লাহোরে তৈরি হয় ‘পান মান্ডি’ বাজার। ভারত থেকে দেশান্তরিত ব্যক্তিরা নিজেদের ব্যবসা স্থাপন করেছিলেন লাহোরের ওই এলাকায়। তখন থেকেই ওই বাজারে বিক্রিত সমস্ত সামগ্রী ভারতীয়। নতুন দেশে এলেও ভারতীয়তা মুছে যায়নি। সেই দর্শন আজও অক্ষত রয়েছে পাক পঞ্জাবে দেশান্তরিত হয়ে যাওয়া মানুষ এবং তাঁদের উত্তরসূরিদের মনে। বিশেষ করে ওই পান মান্ডি বাজার এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে। কারণ তাঁদের রুটিরুজি তো ভারতের উপরেই নির্ভরশীল।

পান মান্ডি ব্যবসায়ী সমিতির প্রধান নবাব আলি খানের মুখে শোনা গেল পাকিস্তানের মাটিতে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ পত্তনের গোড়ার কথা। তিনি জানালেন ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় তাঁর বাবা ওই এলাকায় ব্যবসা শুরু করেছিলেন। জীবনের প্রায় চার কুড়ি সময় অতিক্রম করে তিনি এখন ওই ব্যবসায়ী সমিতির মাথা। তাঁর কথায়, “পান মান্ডি এলাকার ব্যবসা নানা চড়াই উতরাই পেরিয়েছে। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যেকার কূটনৈতিক সম্পর্ক খুব খারাপ হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল লাহোরের পান মান্ডিতে”।

ভারতে তৈরি প্রসাধন সামগ্রী এবং ওষুধ ওই বাজারের প্রধান বিক্রিত দ্রব্য। এছাড়া জামা কাপড় এবং খাদ্যদ্রব্যও বিক্রি হয় পাকিস্তানের ‘মিনি ইন্ডিয়া’তে। এসব কিছুই যায় ভারত থেকে। ভারতীয় সামগ্রীর দাম বেশি হলেও ক্রেতারা সেগুলি কিনতেই বেশি পছন্দ করেন। এর প্রধান কারণ হচ্ছে গুণগত মান। ভালো গুণগত মানের কারণে তিনগুণ বেশি দামেই ভারতীয় দ্রব্য কিনতে দ্বিতীয়বার ভাবেন না পাক ক্রেতারা। যদিও, ওই বাজারে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ ভারতীয় সামগ্রী পাকিস্তানে পৌঁছায় চোরাপথে। জাল ভারতীয় মোড়কের আড়ালেও চলে কালো ব্যবসা। তবু বিক্রিতে মন্দাভাব দেখা যায়না। ভারতীয় নামই যে ওই বাজারের প্রধান ইউএসপি।