চন্ডীগড়: ফেডারেশনের সঙ্গে চলা দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান। অবশেষে হাল ছেড়ে দিলেন রঞ্জিত বাজাজ। শুক্রবার ভগ্নহৃদয়ে ক্লাব বন্ধের সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেললেন তিনি। নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে একাধিক টুইটের মাধ্যমে ফ্যানেদের ক্লাব বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানান মিনার্ভা পঞ্জাবের মালিক। ফলে জেসিটি, মাহিন্দ্রা ইউনাইটেড কিংবা ডেম্পোর মত হেভিওয়েট ক্লাবগুলোর দলে নাম লেখাল ২০১৭-১৮ আই লিগ চ্যাম্পিয়নরা।

শুক্রবার দুপুরে ২০ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি টুইট করেন মিনার্ভা কর্ণধার। সেখানে ক্লাব বন্ধ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে কারণ হিসেবে পরিষ্কারভাবে ফেডারেশনকে কাঠগড়ায় তোলেন ক্ষুব্ধ বাজাজ। ভারতীয় ফুটবলে বর্ণময় এই ফুটবল কর্তা লেখেন, ‘ভারতীয় ফুটবলে অন্যান্য ক্লাবগুলোর মতো অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে ক্লাব বন্ধের সিদ্ধান্তটা গ্রহণ করতেই হল। ২০১৮-১৯ সিনিয়র আই লিগ, অনুর্ধ্ব-১৩, অনুর্ধ্ব-১৫ এবং অনুর্ধ-১৮ আইলিগ। চার বছরে ৬টি খেতাব জয়। ৬০’র অধিক ফুটবলারকে দেশের বিভিন্ন ক্লাবের উপযুক্ত করে তোলার পর অবশেষে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মিনার্ভা পঞ্জাব এফসি।’

দ্বিতীয় টুইটে কটাক্ষ করে বাজাজ অভিনন্দন জানান ফেডারেশন ও এফএসডিএল-রিলায়েন্সকে’কে। এমনকি মিনার্ভা পঞ্জাব সহ ভারতবর্ষের অন্যান্য ফুটবল ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে ফেডারেশনকেই প্রত্যক্ষভাবে দায়ী করেন তিনি। তৃতীয় টুইটে বাজাজ জানান, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী ভারতীয় ফুটবলের উন্নতির স্বার্থে নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। ভবিষ্যতেও দেশের ফুটবলে উন্নতির স্বার্থে কাজ করে যাবেন। কিন্তু ফেডারেশনের সঙ্গে কোনওভাবেই আর সমঝোতার পথে হাঁটবেন না বলে স্পষ্ট করে দেন মিনার্ভা কর্ণধার।

ফেডারেশনের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, দেশের ফুটবলের উন্নতিতে আগামীতে ইতিবাচক রোডম্যাপ তৈরি ইত্যাদি বিভিন্ন ইস্যুতে রঞ্জিত বাজাজের সঙ্গে দেশের ফুটবল ফেডারেশনের ঠোকাঠুকি লেগেই ছিল। সংঘাত চরমে ওঠে পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার পর কাশ্মীরে গিয়ে মিনার্ভার ম্যাচ খেলার প্রশ্নে। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে পুলওয়ামা ঘটনার পর কাশ্মীরে দল পাঠাননি তিনি। পরে অবস্থা পুনর্বিবেচনা করে আইলিগ শেষ হওয়ার পর ম্যাচটি পুনরায় আয়োজনের কথা ঘোষণা করে এআইএফএফ।

কিন্তু ১৫ মার্চের মধ্যে সেই ম্যাচ আয়োজনের কথা থাকলেও সেই ম্যাচ খেলতে বেঁকে বসে রিয়াল কাশ্মীর এবং তিন পয়েন্টের দাবি জানায় তারা। বিষয়টি নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ আগেই হয়েছিলেন বাজাজ। কিন্তু নিষ্পত্তির জন্য শেষমেষ বাজাজকে আইলিগ কমিটিরই দ্বারস্থ হতে বলে দিল্লি হাইকোর্ট। ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট প্রফুল প্যাটেলের নেতৃত্বাধীন এআইএফএফের এমার্জেন্সি কমিটিতে বিষয়টি এখনও বিচারাধীন। আইলিগের ক্লাবগুলির জোট ও ফেডারেশনের তীব্র সংঘাতের মধ্যেই বাজাজের এই ঘোষণা যে দেশের ফুটবলে বড়সড় ধাক্কা, তা বলাই যায়।