সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ‘তিনি বলেছেন যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে’। কাদের নিয়ে কে এমন কথা বললেন ? প্রসঙ্গই বা কি ? বক্তা, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাদের তিনি এমন কথা বললেন তাঁরা হলেন টলিউডের দুই ‘hotty naughty’ দুই নায়িকা নুসরত জাহান এবং মিমি চক্রবর্তী। প্রসঙ্গত, আসন্ন  লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচনের টিকিট পেয়ে যাওয়া। পূর্ব তথ্য বলছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফিল্মি রাঁধুনিরা শুধু চুল বাঁধতেই পারেন , রাজনীতির পাকশালায় এনাদের হাতের রান্না খুবই খারাপ।

২০১৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের থেকে যে সব সিনেমা জগতের সেলিব্রিটি প্রার্থীরা লোকসভা নির্বাচনে জিতে সংসদে গিয়েছিলেন দেখা গিয়েছে, লোকসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় গিয়ে তাঁরা কেবল বসে থাকেন ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ হয়ে। না তোলেন বড় কোনও প্রশ্ন, না অংশ নেন বিশেষ বিতর্কে, না কোনও বিশেষ সমস্যার সমাধান করেন নিজের এলাকার। গত পাঁচ বছরে জয়ী সিনেমা জগতের সেলেব সাংসদদের নিয়ে তৃণমূলের দলের অন্দরেও বহু ক্ষোভ রয়েছে।

তবু ফের মুখ্যমন্ত্রী আবারও শুধু সিনেমা জগতের সেলিব্রিটি প্রার্থী নিয়োগই করলেন না উলটে আরও দু’জন নতুন ফিল্মি সেলিব্রিটিকে প্রার্থী করলেন যারা এই মুহূর্তে তাঁদের কেরিয়ারের মধ্যগগনে রয়েছেন। হাতে প্রচুর কাজ। রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন মিমি (যাদবপুর), নুসরত (বসিরহাট) তাঁদের সেলেব ভাবমূর্তি নিয়ে নির্বাচনে জিতেও যান তাহলে তাঁরা ফিল্মি কেরিয়ারের তল্পিতল্পা গুটিয়ে, মানুষকে এন্টারটেন করা ছেড়ে মানুষের স্বার্থে কাজ করতে মানুষের হয়ে কথা বলতে সময় বার করে নিতে পারবেন তো ? তৃণমূলনেত্রীর কথা ধরেই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে তাঁরা চুল টুল বেঁধে রান্নাঘরের কাজটা করতে পারবেন তো ?

যদি তারকা প্রার্থী হিসাবে শতাব্দী রায় , মুনমুন সেন , সন্ধ্যা রায়ের সাংসদ হিসাবে পারফর্মেন্স নিয়ে পর্যালোচনা করা হয় তাহলে তথ্য অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে তিন জনের রেকর্ডই মোটেই ভালো নয়। মুনমুন সেন যার আসল নাম শ্রীমতী দেববর্মা তিনি গতবার বাঁকুড়া থেকে জয়ী হয়েছিলেন। গত পাঁচ বছরে সাংসদে তিনি একটিও প্রশ্ন তোলেননি। বিতর্কে অংশ নেওয়ার সংখ্যা মাত্র একটি। যদিও তাঁর সংসদে উপস্থিতির হার বেশ ভালো। ৬৯ শতাংশ।

রাজনীতিবিদরা বলছেন, উপস্থিতির হার বেশি হওয়া স্বাভাবিক কারণ এখন তিনি সিনেমা জগত থেকে বেশ খানিকটা দূরে। কিন্তু উপস্থিত থেকেই আসল কাজের কাজ কিছু হয়নি। তাঁর কেন্দ্র বাঁকুড়াতে সাংসদ হিসাবে থাকা নিয়ে বহু দ্বন্দ্ব রয়েছে দলের মধ্যেই। সে খবর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে রয়েছে এটা ধরে নেওয়া যেতেই পারে। তবু তাঁকে তিনি আবারও নির্বাচনে প্রার্থী করলেন। এবারে তিনি লড়বেন আসানসোল থেকে।

শতাব্দী রায়ের উপস্থিতির হার ৭৪ শতাংশ , সেটার কারণ খুবই স্পষ্ট। যেন ‘নেই কাজ তো খই ভাজ’ এমন একটা ভাব করে তিনি চলে আসেন দিল্লিতে। পাঁচ পাঁচটি বছরে তিনি তিনটি বিতর্কে অংশ নিয়েছেন। প্রশ্ন তুলেছেন মাত্র দুটি। ২০১৬ সালের নারী দিবসে শতাব্দী রায়ের একটি আবৃত্তি ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল নেট দুনিয়ায়। এইটুকুই তাঁর লোকসভায় অবদান। সিনিয়রদের সঙ্গে তিনি সবসময় থাকেন। দিল্লিতে যে কোনও দলীয় বিক্ষোভ হলে তাঁকে পিছনের সারিতে পাওয়া যায়। তাঁকেও প্রার্থী করেছেন তৃণমূল নেত্রী। স্থান পরিবর্তন হয়নি। ‘কেষ্ট’ অনুব্রত মণ্ডলের বীরভূম জেলা থেকেই তিনি আবারও লড়বেন।

সন্ধ্যা রায়, তিনি অভিনয় জগত থেকে বহুদূরে থেকেও লোকসভায় উপস্থিতির হার ৫৩ শতাংশ। বিতর্কে অংশ নিয়েছেন মাত্র দুটিতে। কোনও প্রশ্ন তিনি তোলেননি। এবারে তিনি দলের টিকিটও পাননি। তুলনায় বিতর্কিত অভিনেতা তাপস পাল ৪৭ শতাংশ উপস্থিতির মধ্যেই ৮টি বিতর্কে অংশ নিয়েছিলেন, সাতটি প্রশ্নও তুলেছিলেন। সিবিআইয়ের জালে জড়িয়ে যাওয়া প্রাক্তন অভিনেতাকে আর নির্বাচনের টিকিট দেন নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সবমিলিয়ে স্পষ্ট যে যারা গতবার সিনেমা জগত থেকে তৃণমূলের হয়ে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন তাঁদের দিয়ে বিশেষ কিছু কাজ হয়নি। তবুও এঁরা যখন রাজনীতির ময়দানে পুরোদমে নেমেছিলেন তখন তাঁদের ফিল্মি কেরিয়ার প্রায় শেষ হিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মিমি এবং নুসরত! দুই নতুন প্রার্থী? দুজনের হাতেই প্রচুর কাজ রয়েছে। জিতে গেলে মানবসেবা , মনোরঞ্জন? দুই নৌকায় ব্যালেন্স করতে পারবেন তো ? পারবেন তো তাঁদের দিদির কথা অনুযায়ী , রেঁধে চুল বেঁধে দেখিয়ে দিতে?

প্রসঙ্গত মিমি এবং নুসরত দুজনকেই বহুবার ফোন করা হলেও তাঁদের প্রার্থী হওয়ার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যমের ফোন না তুললেও চলবে কিন্তু জনপ্রতিনিধি হয়ে গেলে জনতার ‘কল’!