সপ্তম তথা শেষ দফার ভোট রবিবার। গত দু’মাস ধরে চলা ভোট পরীক্ষার ইতি। এরপর শুধুই রেজাল্টের অপেক্ষা। প্রচারে চমক দেওয়ার চেষ্টা করেছেন প্রত্যেকেই। তবে শেষ দফায় নজর কাড়বেন বেশ কয়েকজন প্রার্থী। তাদের মধ্যে কারও কারও রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। কেউ আবার বক্তৃতায় নজর কেড়েছেন। তাই শেষ দফায় চোখ থাকবে তাদের দিকে।

নজরকাড়া প্রার্থীদের দেখে নেওয়া যাক একনজরে:

মিমি চক্রবর্তী: তৃণমূলের মঞ্চ থেকে হঠাৎ হাজির প্রার্থী তালিকায়। শোনা যায় তিনি নিজেও নাকি জানতেন না। তিনিই ছিলেন এবারের ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম বড় চমক। টলিউডে রমরমা থাকা সত্বেও তাঁকে রাজনীতিতে আসতে দেখে অবাক হয়েছিলেন অনেকেই। অনভ্যস্ত মিমি প্রচারে গিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন বারবার।

কখনও হাতে গ্লাভস পরে জনতার সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, কখনও আবার প্রচার মঞ্চে মেজাজ হারিয়েছেন। তবে শ্যুটিং ছেড়ে সময় দিয়েছেই ভোট প্রচারেই। যাদবপুরের হেভিওয়েট প্রার্থী বিকাশ রঞ্জনের সঙ্গে লড়াই তাঁর।

অনুপম হাজরা: এবারের লোকসভা নির্বাচনে বারবার নিজের দিকে নজর ঘুরিয়েছেন এই অনুপম হাজরা। তৃণমূলে সাংসদ হয়েই হাতেখড়ি বীরভূমের প্রফেসরের। তরুণ অধ্যাপক ধৈর্য্য হারান মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে। লোকসভা নির্বাচনের আগেই সব ছেড়ে একেবারে বিজেপিতে আশ্রয়। জুটে গেল টিকিটও। যাদবপুরে মিমি আর বিকাশ রঞ্জনের সঙ্গে লড়ছেন তিনি।

এতদূর পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। কিন্তু পঞ্চম দফায় সেই অনুপম হঠাৎ হাজির অনুব্রত’র অফিসে। পাত পেড়ে খেলেন, ছবি তুললেন, ঝালিয়ে নিলেন পুরনো সম্পর্ক। দলে ফিরলে রাজ্যসভায় টিকিট দেবেন অনুপমকে, এমন ইঙ্গিতও দিলেন কেষ্টা। দিনভর খবরে থাকার পর দলের চাপে দিতে হয়েছে ব্যাখ্যাও। তাই অনুপমকে আগ্রহ থাকবেই শেষ দফায়।

ফুয়াদ হালিম: পেশায় চিকিৎসক ফুয়াদ হালিম এবার সিপিএমের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীর মধ্যে অন্যতম। তাঁর জন্য ভোট চেয়েছেন খোদ নাসিরুদ্দিন। ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন তিনি। বাবা হাসিম আব্দুল হালিম ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন স্পিকার। তাই অভিষেকের গড়ে তিনি চ্যালেঞ্জ জানাবেন, এমন আশা দেখছেন অনেকেই।

প্রচারে বেরিয়ে একাধিকবার আক্রমণের মুখে পড়েছেন ফুয়াদ হালিম।

নুসরত জাহান: ভোটের বাজারে তাঁর ওঠা-বসা, বক্তৃতা সবই ভাইরাল। ছবিতে কখনও তাঁর কোলে ছাগল, কখনও কোমরে কাপড় গুঁজে আম পাড়ছেন। হবে নাই বা কেন! আফটার অল তিনি নায়িকা। তাঁকে দেখতে হামলে পড়া ভিড় জনসভায়। মিমি বলেছিলেন, নুসরত নাকি নোট নিয়ে নিচ্ছেন। অবশেষে তাঁর ফাইনাল পরীক্ষা রবিবার। বসিরহাট কেন্দ্র থেকে লড়ছেন তিনি। বিপক্ষে বিজেপির সায়ন্তন।

তবে শুধু নায়িকার ক্যারিশ্মা নয়। ছিল বিতর্কও। পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত কাদেরের একসময়ের প্রেমিকা নুসরত। তাই প্রশ্ন তো উঠবেই। এড়িয়ে যাননি। দিয়েছেন উত্তর। এছাড়া সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বসিরহাটে ভোটের বিশেষ সমীকরণও আছে। তাই নুসরতের ফলাফলের দিকে চোখ থাকবেই রাজনৈতিক মহলের।

সায়ন্তন বসু: বসিরহাটের বিজেপি প্রার্থী সায়ন্তন বসু। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তিনি। ভোট প্রচারে বারবার শিরোনামে এসেছেন সায়ন্তন। বিরুদ্ধে যখন তৃণমূলের অস্ত্র নুসরত, তখন সায়ন্তনের লড়াইটা যে কঠিন তা বলাই বাহুল্য।

প্রচারেও তাই তাঁর গলার জোর ছিল তুঙ্গে। তিনি বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বলব সমাজবিরোধী বুকে গুলি করতে। বিজেপির তরফে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তা তুলে দেওয়া হবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে। দিন কয়েক আগে তিনি সন্ত্রাস করলেন পাল্টা সন্ত্রাসের হুমকিও দিয়েছিলেন। তাই এবার নজরে থাকবেন সায়ন্তন।

নন্দিনী মুখোপাধ্যায়: যাদবপুরের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপিকা তিনি। রাজনীতিতে শিক্ষিত লোক তেমন আসে না বলে একটা প্রচলিত ধারণা আছে। তাই কম্পিউটার সায়েন্সে তুখোড় নন্দিনীকে ঘিরে আগ্রহী এক শ্রেণীর মানুষ। মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচার করেছেন তিনি।

দক্ষিণ কলকাতার সিপিএমের প্রার্থী নন্দিনী মুখোপাধ্যায়। তাঁর জন্য ভোট চেয়েছেন অনীক দত্ত, সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়ের মত শিল্পীরা। তাঁর জন্য অনীক দত্ত লিখেছিলেন, ”নন্দিনী মুখোপাধ্যায়কে ভোট না দিলে, না দেবেন; কিন্তু, তারপর আর ঘ্যান ঘ্যান করবেন না..সৎ, ভদ্র, শিক্ষিত লোকেরা রাজনীতিতে আসেন না কেন?”

চন্দ্র বসু: দক্ষিণ কলকাতার বিজেপি প্রার্থী চন্দ্র বসু। সুভাষ চন্দ্র বসুর পরিবারের ছেলে তিনি। সম্পর্কে নেতাজির নাতি। তাঁর দাদু হলেন নেতাজির মেজদা শরৎ বসু। তাঁর বাবা অমিয়নাথ বসুও একসময় ফরওয়ার্ড ব্লকের সাংসদ ছিলেন। হেন্ডান কলেজ অফ লন্ডন থেকে অর্থনীতি পড়েছেন। আইআইএম, কলকাতার প্রাক্তনী তিনি। ১৮ বছর টাটা ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি নিজের ব্যবসা শুরু করেন।

২০১৬-তে তিনি যোগ দেন বিজেপিতে। সেই বছরেই বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়ে হেরে যান।

শমীক ভট্টাচার্য: দীর্ঘদিনের বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্রও বটে। তাঁর লড়াই এবার সৌগত রায়ের বিরুদ্ধে দমদম কেন্দ্রে। তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে নারদ-কাণ্ডের অভিযোগ অক্সিজেন যোগাচ্ছে শমীক ভট্টাচার্যকে।

কনীনিকা বসু: পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির রাজ্য সম্পাদক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে কনীনিকা বসু ঘোষের । পেশায় তিনি স্কুল শিক্ষিকা৷ গত বিধানসভা ভোটে কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থীও হয়েছিলেন তবে পরাজিত হন৷