সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : তিনি বারংবারই ট্রোলের স্বীকার হচ্ছেন। ইদানিং একটু বেশিই। যেদিন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিমি চক্রবর্তীকে লোকসভা নির্বাচনের জন্য যাদবপুর থেকে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন তবে থেকে এই ট্রোল বেড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তবে এবার আর কোনও ট্রোল নয় সংখ্যালঘু সমাজের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী।

উঠতে বসতে মিমিকে নিয়ে ট্রোলের বন্যা বয়েছে। তিনি রোদ থেকে বাঁচতে হাতে গ্লাভস পড়ে হাত মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জনসংযোগের ছবি দিয়েছেন , ট্রোলের স্বীকার হয়েছেন। তিনি তাঁর পূর্ব পরিচিত এক রিক্সাচালকের সঙ্গে ছবি দিয়েছেন সেখানে রিক্সায় হেলান দেওয়ার জায়গায় তোয়ালে রাখা ছিল তা নিয়ে ট্রোল হয়েছে। মিমি প্রচার করতে গিয়ে হাতে চোট পেয়েছিলেন, তাঁর ‘মেন্টর’ অরূপ বিশ্বাস তাঁর হাতে জল দিয়ে শুশ্রূষা করছেন, মুহূর্তে সেই ছবি ট্রোল হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

মঙ্গলবার রমজান মাস উপলক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি পোস্ট করেন যেখানে তিনি ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মতো বোরখার মতো করে ওড়না মাথায় জড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান। এই ছবিতে কোনও ট্রোল হয়নি। এই ছবিতে একটি কমেন্ট স্ক্রিন শট সমেত মারাত্মক ভাইরাল হয়ে যেতে শুরু করে যা ছিল ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তবে সেই ক্ষোভ প্রকাশের ভাষা অত্যন্ত নম্র।

মতিউর রহমান নামে এক ব্যক্তি কমেন্ট বক্সে লিখেছেন, “আপনি আপনি মাথায় ঘোমটা না দিয়ে wish করলে খুশি হতাম , এই স্টিরিওটাইপ মানসিকতা ছাড়ুন , দুর্গাপূজা দেওয়ালির শুভেচ্ছা জানানোর সময় আমরা কপালে তিলক কেটে শুভেচ্ছা জানাই না । অন্তর থেকে ভালোবাসার জন্য এত কিছু প্ল্যান করার প্রয়োজন হয় না। এসব বড় সস্তা স্টান্টবাজি”। এই কমেন্ট এবং মিমির ওই রমজানের শুভেচ্ছা বার্তাবহ ছবিটি একসঙ্গে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে ওই ব্যক্তি কলকাতারই বাসিন্দা। এর পরেই আরও অনেকে ওই ব্যক্তির সঙ্গে সহমত পোষণ করে নানা ধরনের কমেন্ট করেন।

যেমন মুখতার খান নামে এক ব্যক্তি ওই ছবিতে কমেন্ট করেছেন , “আশা করি এটা কোনও মুভির সিন নয়। রমজান মুবারক বলার জন্য এই পোজটার প্রয়োজন ছিল না। কোনও মুসলিম হ্যাপি দেওয়ালি বলার জন্য এরকম কিছু করে না, করার প্রয়োজনও নেই। মন থেকে উইশ করলেই হল। আর কেউ যদি সেকুলার (ধর্ম নিরপেক্ষ) হয় তাহলে তার কাছে এগুলো জাস্ট ফ্যান্সি ড্রেস’।

মিমিকে এই প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এই নিয়ে আমার বিশেষ কোনও বক্তব্য নেই৷ তবে আমি বলব যে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই অনেক কিছু বলে থাকেন, এই ঘটনাটা অনেক দিন ধরেই চলছে৷ এগুলো নিয়ে এখন আর মাথা ঘামাচ্ছি না৷ তবে এটাও বলব, যে আমি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম৷ এখানে কোনও ভেদাভেদের বিষয় নেই৷ এটা যদি অন্য কেউ করত, তাহলে হয়ত তাঁকে ট্রোলের শিকার হতে হত না৷ যেহেতু আমি একজন সেলেব্রিটি ও রাজনীতিতে নতুন এসেছি, তাই হয়ত অনেকে নানা রকম মন্তব্য করছেন৷

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিমি সম্ভবত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কপি করতে গিয়েছিলেন কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইফতার পার্টি থেকে শুরু করে ইদের নমাজের মঞ্চে মিমির মতোই ওই একই লুকে দেখা গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে মুখের উপর কেউ কিছু বলতে পারেননি। রাজনীতির ময়দানে নবাগতা মিমিকে পেয়ে অনেকেই বোমা দেগে দিয়েছেন।