ইসলামাবাদ: অর্থনৈতিক দূরাবস্থা ছিলই। কিন্তু পরিস্থিতি যে এতটা সঙ্গীন ভাবতে পারেনি কেউই। ইতিমধ্যে দুই বছর সময় শেষ হতে চলেছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের। আর তার দল তেহরাক ই ইনসাফেরও। কিন্তু তাঁর এই সময়কালে প্রায় ১৮ কোটি মানুষ রয়েছে দরিদ্র সীমার নীচে,শুধু তাই নয় তার সঙ্গে রয়েছে খাদ্য সংকটও। এমনটাই জানিয়েছেন সে দেশের অর্থনীতিবিদেরা।

এমনিতেই পাকিস্তানের অর্থনৈতিক কাঠামো রীতিমত ধুঁকছে। আর তাঁর মধ্যে এই ধরনের তথ্য সামনে আসাতে পরিস্কার হয়েছে সে দেশের বাস্তব চিত্র। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী হাফিজ এ পাশা যিনি পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের উপদেষ্টা ছিলেন জানিয়েছেন, পিটিআই সরকারের প্রথম বছর শেষ হওয়ার পরেই ৮ কোটি মানুষ দরিদ্রসীমার এই তালিকার মধ্যে ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন আরও ১০ কোটি মানুষ বর্তমান ফিসক্যাল বছর শেষ হওয়ার পরেই দরিদ্র সীমার নীচে আসবেন।

পাশা সংবাদমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন, দেশের এই পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগের। কেননা জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যদ্রব্যের দাম ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা যথেষ্ট চিন্তারও বটে।এই দারিদ্র্যতার বর্তমান পরিসংখ্যা নেই বলে জানিয়েছেন সেই দেশের ফেডারেল মিনিস্টার ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট আসাদ উমার।

এছাড়াও পাশা জানিয়েছেন, সরকারের ক্রমবর্ধমান হারে ট্যাক্সের বোঝা, এনার্জি ট্যারিফ, পাক টাকার দাম পরে যাওয়া আরও দারিদ্র্যতার হার বারাচ্ছে। আগামী জুন মাসের মধ্যে প্রতি দশজন পাকিস্তানির মধ্যে চারজন পাকিস্তানি থাকবেন দারিদ্র সীমার নীচে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।

এছাড়াও খাদ্য সংকট এক অন্যতম চিন্তার কারণ পাক সরকারের কাছে। পাকিস্তান ব্যুরো অফ স্ট্যাটিস্টিক্স এর মতে গত নভেম্বরের রিপোর্ট অনুযায়ী শহরে খাদ্য সংকটের হার ১৬.৬ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে ১৯.৩ শতাংশ ছিল।

আরও পড়ুন- রাষ্ট্রপতি ভবনের কাছে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা, গোটা এলাকা ঘিরে ফেলল সেনা

এছাড়াও জানিয়েছেন ২০১৫ সালে দারিদ্র্যতার হার ছিল ৩৬.৮ শতাংশ। ২০১৭-১৮ তে তা নেমে এসেছিল ৩১.৩ শতাংশে। এই ৫.৫ শতাংশ বা প্রায় ৬ কোটি মানুষ তিন বছরের মধ্যে এই দারিদ্র্যতার সীমার বাইরে ছিলেন।

২০১৮-১৯ সালে এই হার ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে। যা ভাঁজ ফেলেছে সকলের কপালে। ২০১৯-২০ অন্তিম লগ্নে এই হার বেড়ে দাঁড়াবে ৪০ শতাংশে এমনটাই জানিয়েছেন।