স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: রাস্তায় দুধ ঢেলে অভিনব বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিলেন ঘোষ এণ্ড গাভী কল্যাণ সমিতির সদস্যরা। শুক্রবার বাঁকুড়া শহরের প্রাণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ‘মাচানতলা’য় সংগঠনের বাঁকুড়া জেলা কমিটির সদস্যরা এই বিক্ষোভ সমাবেশে ২১ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।

আগামী ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে গোয়ালা সম্প্রদায় ‘নির্ণায়ক শক্তি’ হতে চলেছে দাবি করে সংগঠনের পক্ষ থেকে সংসদ ও বিধানসভা নির্বাচনে গোয়ালাদের ২০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়। এছাড়াও দুগ্ধ সম্পদ বিকাশ মন্ত্রী পদ সৃষ্টি, দুগ্ধজাত শিল্পকে কুটির শিল্পের মর্যাদা দান, সরকারী চাকরির ক্ষেত্রে গোয়ালা সম্প্রদায়ের ২০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ, গোরু/মোষ ক্রয়ের উপর ৪০ শতাংশ ভর্তুকি, পিছিয়ে পড়া গো-পালকদের গোরু মোষ প্রদানের দাবিও জানানো হয়।

এছাড়াও প্রতি ব্লকে সরকারি দুধের সেন্টার তৈরী, গো পালকদের বিনামূল্যে বিমা, ছানা পরিবহনে ট্রেনে এসি কোচের ব্যবস্থা সহ বেশ কিছু দাবিতে এদিন তারা সরব হন। ঘোষ এণ্ড গাভী কল্যান সমিতির তরফে এই সময়ে রাজ্যে গোপালক ও দুগ্ধ ব্যবসায়ীদের দিকে কোন রাজনৈতিক দলের নজর নেই। যেখানে মানুষ কুড়ি টাকা লিটার দরে জল কিনে খাচ্ছেন, দুধের দামও সেখানে কুড়ি টাকা লিটার। রাজ্যে যদি মৎস্য দফতরের মন্ত্রী থাকতে পারেন তাহলে দুগ্ধ মন্ত্রী কেন হবে না।

তাঁদের অভিযোগ প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা এই গোপালকদের মাধ্যমে লেনদেন হয়। কিন্তু তারাই আজ সমাজের অবহেলিত রয়ে গেছেন। তাদের দাবি পূরণ না হলে আগামি দিনে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন।

সংগঠনের রাজ্য সভাপতি বাপ্পাদিত্য ঘোষ বলেন, গোয়ালা সম্প্রদায়ের মানুষের কথা কোন সংগঠনই ভাবেনা। তাই সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য রাস্তায় দুধ ঢেলে তাদের আজকের এই আন্দোলন। বর্তমান সময়ে দুধ ও জলের দাম এক দাবি করে তিনি বলেন, দুধ, ছানা ব্যবসার উপর সরকার নজর দিলে সহজেই সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব। রাজ্যে ঘোষেদের কোন সাংসদ, বিধায়ক নেই। তাই তাদের হয়ে কথা বলার কেউ নেই। সেকারণেই আসন সংরক্ষণের দাবি। এই দাবিগুলি নিয়ে জেলায় জেলায় আন্দোলন কর্মসূচি সংগঠিত হচ্ছে। দাবিপূরণ না হলে ‘অনশনে’রও হুমকি দেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি বাপ্পাদিত্য ঘোষ।