ঢাকা: প্রতিবেশি মায়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান, সর্বময় শাসক সু কি কে গৃহবন্দি করার ঘটনা কে অতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ সরকার।

প্রায় ১১ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী বর্মী সেনার হামলায় নিজ দেশ মায়ানমার ছেড়ে এখন বাংলাদেশে আশ্রিত। তাদের ফেরত পাঠানো নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে টালবাহানা করে চলেছে মায়ানমার। এমনই অভিযোগ বারবার করছে ঢাকা।

বাংলাদেশ বিদেশমন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে জানাল, উদ্ভূত পরিস্থিতিতেও দেশটিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলেই আশা করা হচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক নীতিতে বিশ্বাসী। মায়ানমারে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা সমুন্নত থাকবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।

ঢাকায় বিদেশমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন জানান, সু কি গৃহবন্দি ইস্যু বাংলাদেশ সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে,পার্শবর্তী বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে আমরা চাই মায়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক। পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা করে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

রোহিঙ্গা গণহত্যার তীব্র আন্তর্জাতিক বিতর্ক চলাকালীন রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুত্থানে সোমবার বন্দি হয়েছেন মায়ানমারের সর্বময় নেত্রী আউং সান সু কি। রাজধানী সহ দেশটির সর্বত্র ফের সেনা শাসন কায়েম হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, সোমবার ভোরে মায়ানমারের ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির নেত্রী তথা সর্বময় শাসক আউং সান সু কি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট সহ শাসক দলের শীর্ষ নেতারা বন্দি হয়েছেন।

মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ (পূর্বতন আরাকান) সীমান্তবর্তী চট্টগ্রামের রোহিঙ্গা শিবিরে আরও সতর্ক দৃষ্টি রাখা হয়েছে। এছাড়া মায়ানমার লাগোয়া পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বিশেষ টহল শুরু করেছে বলেও খবর।

২০১৭ সালে মায়ানমারের রাখাইনে গোষ্ঠী সংঘর্ষ ইস্যুতে বর্মী সেনার ক্যাম্প আক্রান্ত হয়। এর পরে শুরু হয় সেনা অভিযান। অভিযোগ, সেনা অভিযানের সময় রোহিঙ্গা গণহত্যা ও গণধর্ষণ চলে নির্বিচারে। লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগে ঢুকে পড়ে। তীব্র আন্তর্জাতিক এই বিতর্কের সময় সু কি নীরব ছিলেন। তাঁর নীরবতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ছড়ায় ক্ষোভ। পরে রাষ্ট্রসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধিকৃত হন তিনি। দাবি উঠেছিল তাঁর নোবেল পুরষ্কার ফিরিয়ে নেওয়ার।

বাংলাদেশ সরকার আশ্রয় নেওয়া লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গার জন্য শরণার্থী শিবির চালাচ্ছে। এর জন্য বিরাট জনসংখ্যা চাপের মুখে পড়েছে দেশটি। ফলে দ্রুত রেহিঙ্গাদের নিজ দেশ মায়ানমারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে উদ্যোগী ঢাকা। অভিযোগ, এই উদ্যোগে নেত্রী সু কি বারবার জল ঢোলেছেন। মনে করা হয়, এতদিন তিনি নিছকই শাসক ছিলেন। নিজ দেশের সেনার নির্দেশ পালন করেছেন।

মায়ানমারের ২০১১ পর্যন্ত শাসন করেছে সামরিক বাহিনি। ১৯৮৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত গৃহবন্দি ছিলেন সু কি। বিবিসি জানাচ্ছে, সোমবার ফের অভ্যুত্থানের পর বর্মী সেনা সু কি অন্য নেতাদের গ্রেফতারের কারণ হিসেবে গত নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ করেছে। এই মুহূর্তে মায়ানমারের ক্ষমতা কমান্ডার ইন চিফ মিন অং লাইংয়ের কাছে।

সেনা ঘেরাটোপে থেকেও হুঙ্কার ছেড়েছেন নেত্রী সু কি। তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি ( এনএলডি) পার্টি সোমবার জানিয়েছে নেত্রী জনগণকে এই সেনা অভ্যুত্থান মেনে না নিয়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, “সামরিক বাহিনির এই পদক্ষেপ দেশকে আবার স্বৈরতন্ত্রের দিকে ঠেলে দেয়ার পদক্ষেপ।”

গত জাতীয় নির্বাচনে সু কি প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। সেনা সমর্থিত দল কিছু আসন পায়। বিবিসি জানাচ্ছে, সোমবার নব নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রথম বৈঠক হবার কথা ছিল। কিন্তু সেনাবাহিনি অধিবেশন স্থগিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। এর পরেই বন্দি হন সু কি।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।