ঢাকা: দেশের পুলিশ বাহিনীর উপর আত্মঘাতী হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করলেন বাংলাদেশ পুলিশের আজি ড.মহম্মদ জাবেদ পাটোয়ারি৷ এই কারণে আরও সতর্কতা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে৷ আসন্ন বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে জঙ্গি হামলার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে একথা জানান তিনি৷ আইজি বলেছেন ‘বৌদ্ধ পূর্ণিমায় কোনও সুনির্দিষ্ট হামলার তথ্য নেই। তবে হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে বৌদ্ধ প্রধান এলাকাসহ সারাদেশেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।’

সম্প্রতি বাংলায় পোস্টার দিয়ে সোশ্যাল সাইটে হামলা হুমকি দিয়েছে ইসলামিক স্টেট৷ শ্রীলংকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পর তাদের এই হুমকি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিশেষ চিন্তার কারণ বলে মনে করছে বিভিন্ন গোয়েন্দা এজেন্সি৷ বুদ্ধ পূর্ণিমায় পশ্চিমবঙ্গেও হামলার আশঙ্কা রয়েছে৷ এমনই সতর্কতা জারি করা হয়েছে৷ আইএস তাদের বাংলাদেশ শাখার খলিফার (প্রধান) নাম জানিয়েছে৷ এই জঙ্গির নাম শায়খ আবু মুহাম্মদ আল বাঙালি৷

তবে বাংলাদেশে রমজান মাসে ২০১৬ সালে হয়েছিল ভয়ঙ্কর গুলশন হোলি আর্টিজান ক্যাফে হামলা৷ সেই হামলা দায় নিয়েছিল আইএস৷ পরপর নাশকতা শুরু হয়েছিল৷ বাংলাদেশ সরকারের কড়া জঙ্গি দমন পদক্ষেপে ধংস করা হয় একাধিক জঙ্গি আস্তানা৷ বহু জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে৷ এবারের বুদ্ধ পূর্ণিমায় হামলার আশঙ্কায় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তার বহর৷

আইজি জাবেদ পাটোয়ারি বলেছেন, ‘ঢাকা এবং পার্বত্য অঞ্চলে বৌদ্ধ পূর্ণিমার শোভাযাত্রা হবে। এই শোভাযাত্রা ঘিরেও বিশেষ নিরাপত্তা থাকবে। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গেও আমরা বৈঠক করেছি। তাদের নিরাপত্তা চাহিদাও পূরণ করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন,পুলিশ সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে টার্গেট করেছে জঙ্গিরা। দেশজুড়ে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।

আইজি জানান, সারাবিশ্বে জঙ্গিরা এখন ‘লোন উলফ’ পদ্ধতিতে হামলা চালাচ্ছে। অর্থাৎ দলবদ্ধ হামলার চেয়ে একাকী হামলার প্রবণতা বাড়ছে। এই প্রবণতা রোধ করা প্রায় অসম্ভব। হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়। জঙ্গি বা সন্দেহভাজনদের নিয়ে মানুষ তথ্য দিলে এই প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।’