বিশেষ প্রতিবেদন: উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট থেকে ধৃত আল কায়দা জঙ্গিদের অস্ত্র সরবরাহকারী মনোতোষ দে আদতে বাংলাদেশি নাগরিক৷ তার বাড়ি খুলনায়৷ নাম জিয়াউল গাজি৷ ঢাকার সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, বেআইনি অস্ত্র ব্যবসার জন্য একদা জামাত ইসলামি কর্মী জিয়াউল ভারতে অনুপ্রবেশ করে৷

মনোতোষ ওরফে জিয়াউল ও দুই বাংলাদেশি জঙ্গি রিয়াজুল ও সামসেদ মিলে ভারতের মাটিতে আনসারুল্লা বাংলা টিমের (এবিটি) চক্র তৈরি করছিল৷ তাদের লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গের বেশকিছু মুক্তমনা বুদ্ধিজীবীকে খুন করা৷ বাংলাদেশে এই কাজটি এবিটি করে থাকে৷ ধৃতদের জেরা করতে কলকাতায় আসছে বাংলাদেশের গোয়েন্দা অফিসারেরা৷

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪পরগনা জেলা ও বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চলটি লাগোয়া৷ আন্তর্জাতিক সীমান্তের বেশকিছু এলাকা প্রায় অরক্ষিত৷ সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে অনুপ্রবেশ হয়ে থাকে৷ তেমনই কোনও অরক্ষিত এলাকা দিয়ে ২০০৬-০৭ সাল নাগাদ জিয়াউল ঢুকে পড়েছিল ভারতে৷

পড়ুন: বাংলাদেশি মুক্তমনা খুনের চক্রী ‘মেজর’ জিয়ার শাগরেদ কলকাতা পুলিশের জালে

জামাত ইসলামি বাংলাদেশ একটি কট্টরপন্থী সংগঠন৷ বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের উগ্র হিংসাত্মক আন্দোলনে রক্তাক্ত হয়েছে বাংলাদেশ৷ দেশটির অন্যতম বিরোধী দল বিএনপির জোট সঙ্গী হয়ে সরকারে অংশ নিয়েছিল জামাত ইসলামি৷ সংগঠনের শাখা ইসলামি ছাত্র শিবিরের বিরুদ্ধে বারবার নাশকতা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে৷ সম্প্রতি জামাতের প্রধান নেতা (আমির) মকবুল আহমাদ সহ একাধিক শীর্ষ নেতাকে নাশকতা ছড়ানোর অভিযোগে বন্দি করা হয়েছে৷ সূত্রের খবর, আত্মগোপনে থেকেই বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনে লড়তে মরিয়া জামাত৷ যদি সেরকম কিছু করা সম্ভব না হয় তাহলে নাশকতার পথেই তারা যেতে পারে৷ এমনই মনে করে ঢাকা মহানগর পুলিশের একাংশ৷

পুরনো সংগঠন জামাত ইসলামির সঙ্গে এখনো কতটা জড়িয়ে জিয়াউল ওরফে মনোতোষ সেই দিকটি খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা৷ জানা গিয়েছে, খুলনারই দুই ‘মুক্তমনা’ ব্লগারকে খুনের পরিকল্পনা করেছিল আনসারুল্লা বাংলা টিম(এবিটি)৷ সংগঠনটির লক্ষ্য বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবীদের সরিয়ে মেরে ফেলা৷ গত কয়েক বছরে অন্তত ১১ জন মুক্তমনাকে খুনে উঠে এসেছে এবিটি সংগঠনের নাম৷ তারা আল কায়দা জঙ্গিদের ঘনিষ্ঠ৷

আনসারুল্লা বাংলা টিম৷ সংগঠনের প্রধান নেতা তথা গত বছর ঢাকার গুলশন ক্যাফে হামলার আরও এক অন্যতম চক্রী ‘মেজর’ জিয়া অধরা৷  এবিটি-র প্রধান জঙ্গি নেতার সম্পর্কে তথ্য জানতে ধৃত মনোতোষ ওরফ জিয়াউল গাজির দেওয়া তথ্য খুবই  গুরুত্বপূর্ণ৷

বেআইনি অস্ত্রের ডিল করতে এসে কলকাতায় স্টেশন থেকে মনোতোষের সঙ্গে ধরা পড়ে দুই বাংলাদেশি জঙ্গি রিয়াজুল ও সামসাদ৷তারাও আল কায়দা ঘনিষ্ঠ এবিটি সংগঠনের কর্মী৷জানা গিয়েছে দুই ধর্ম নিরপেক্ষ বাংলাদেশি ব্লগার ছিল তাদের হিটলিস্টে৷ দুই ব্লগারের বাড়ি খুলনাতেই৷ প্রাণভয়ে এক ব্লগার বর্তমানে কলকাতার কাছে আশ্রয় নিয়েছেন৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.