মুম্বই : জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার পর এবার মিলিন্দ দেওরা৷ কংগ্রেসের ঘরে এখন পদত্যাগের হিড়িক৷ মুম্বই কংগ্রেসের সভাপতি মিলিন্দ দেওরা পদত্যাগ করলেন৷ রবিবারই নিজের পদত্যাগের ঘোষণা করেন তিনি৷ তিনি জানান, পদত্যাগ করলেও, দল ছাড়ছেন না তিনি৷ আপাতত দলের সংগঠনের কাজ করতে চান বলে জানিয়েছেন দেওরা৷

তাঁর মন্তব্য, জাতীয় স্তরে কংগ্রেসকে চাঙ্গা করতে যদি কোনও সাহায্য তিনি করতে পারেন, তাহলে সেই কাজও মাথা পেতে নেবেন তিনি৷ তবে মহারাষ্ট্রে সামনেই বিধানসভা নির্বাচন৷ তার আগে মুম্বই কংগ্রেসের প্রধানের পদত্যাগে যথেষ্ট চিন্তায় হাত শিবির৷

রবিবার নিজের দলীয় দফতরে বসে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন মিলিন্দ৷ বলেন, মহারাষ্ট্রে কংগ্রেসের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ বিজেপি শিবসেনা জোটের মোকাবিলা করা৷ সেই লক্ষ্যে আরও মজবুত সংগঠন দরকার৷ জুন মাসের ২৬ তারিখেই নয়াদিল্লিতে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের পর পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন মিলিন্দ দেওরা৷ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে তাঁর পদত্যাগপত্র পৌঁছে গিয়েছে দলের সাধারণ সম্পাদক মল্লিকার্জুন খাড়গে ও কেসি বেণুগোপালের কাছেও৷

২০১৯ সালের শুরুর দিকে মিলিন্দ দেওরাকে মুম্বই কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট পদে মনোনীত করা হয়৷ তবে লোকসভা ভোটে মহারাষ্ট্রে আশানুরূপ ফল করতে পারেনি কংগ্রেস৷ তারপরেই কি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত? এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য পাওয়া যায়নি৷
দেওরা বলেন মুম্বই ইউনিট সামলানোর জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হোক৷ সেই কমিটিকে সহযোগিতা করার জন্য সবসময় তিনি প্রস্তুত বলে জানান৷ উল্লেখ্য লোকসভা নির্বাচনে মুম্বই দক্ষিণ আসনে শিবসেনা প্রার্থী অরবিন্দ সাওয়ান্তের কাছে হেরে যান মিলিন্দ দেওরা৷

এর আগে, রবিবারই রাহুল গান্ধীর রাস্তায় হেঁটে দলের ন্যাশনাল জেনারেল সেক্রেটারি পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দিলেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। কংগ্রেসে আরও এক তরুণ তুর্কী নেতা পদত্যাগ করলেন। সিন্ধিয়া রাজ বংশের সন্তানও হাঁটেন রাহুলের রাস্তায়। মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসের এই দাপুটে নেতাকে অনেকেই সেরাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের বিপুল জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চেয়েছিলেন। তবে বর্ষীয়ান কমলনাথ কেই সেই পদের জন্য বেছে নেয় কংগ্রেস হাই কমিশন।

সচিন পাইলটের মতো জ্যোতিরাদিত্যকে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদে আসীন করতে চেয়েছিল রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস। তবে তা মেনে নেননি মাধবরাও সিন্ধিয়ার সন্তান। এরপর দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর কাঁধে তুলে দেন রাহুল গান্ধী। এদিকে, রাহুল গান্ধীর ইস্তফার পর, মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস প্রধানের পদ ছেড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ, এরপর খবর আসে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে নিয়েও।