কলকাতা: বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী যোগ দিতে পারেন বিজেপিতে৷ এমনটাই আশা প্রকাশ করেছেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রথীন্দ্রনাথ বসু৷ তৃণমূলের কটাক্ষ দিবাস্বপ্ন দেখছে বিজেপি৷

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর অনাস্থা প্রকাশ করেন কোচবিহার দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস আর মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণে নেই।

ফেসবুকে মিহির গোস্বামী লিখেছেন, ‘সংগঠন থেকে আমার অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা করার পর ৬ সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। এই ৪৩ দিনে আমি সব দলের কাছ থেকে এক বা একাধিক ফোন কল পেয়েছি, কথা বলেছি। কিন্তু গত ৬ সপ্তাহে খোদ নেত্রীর কাছ থেকে কোনও ফোন আসেনি। কোনও বরখাস্তনামা কিংবা বহিষ্কারের নির্দেশও আসেনি তার কাছ থেকে৷’ তার মতে, এর থেকেই স্পষ্ট, দলের ক্ষমতা দলনেত্রীর হাতে নেই।

ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা ফেসবুকে আরও লিখেছেন, ‘বহুকাল পরে এবার এক নিস্প্রভ দীপাবলী দেখে মন বিষণ্ণ হয়েছিল। তেমনই ভেবে বিস্মিত হয়ে যাই, যে দলের অভিধানে ‘সম্মান’ বলে শব্দটিই অনুপস্থিত সেই দলে ২২টা বছর কাটিয়ে দিলাম! কী করে সম্ভব হল, কেন তা সম্ভব হল এসব প্রশ্ন উঠে আসে নিজের মনেই! উত্তর একটাই খুঁজে পাই, দিদি! দলের ভেতর অজস্র অপমান অবমাননা ক্রমাগত সহ্য করে গিয়েছি অকারণে, চুপ করে থাকার জন্য শুভানুধ্যায়ীরাও বিরক্ত হয়েছেন বারবার।কিন্তু আমার উত্তর একটাই ছিল, দিদি! যার উপর বিশ্বাস–আস্থাতেই এতদিন টিকেছিলাম।’

মিহির গোস্বামীর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব মেনে দীর্ঘ ৩০ বছর অতিক্রম করার পর হঠাৎ বোধগম্য হয়েছে, এ দল এখন আর আমার দিদির দল নয়, দিদি এখানে নিস্পৃহ। তাই ‘‌দিদির লোক’‌ এখানে অপ্রয়োজনীয় ও গুরুত্বহীন।অন্যায্য সবকিছু মেনে নিয়ে ‘‌যো হুজুর’‌ করে টিকে থাকতে পারলে থাকো, নয়ত তফাৎ যাও। শ্যামামায়ের আরাধনালগ্নে আমার এই অনুমান আরও দৃঢ় হয়েছে।’ এই প্রথম নয়। সাম্প্রতিক অতীতে একাধিকবার দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন এই তৃণমূল বিধায়ক।

কদিন আগেই তৃণমূলের ভোট কৌশলী প্রশান্তকে আক্রমণ করে তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগ ছিল, ‘ঠিকাদার থিংক ট্যাংক কোম্পানি ঢুকে পড়ে তছনছ করছে।’

উল্লেখ্য, ২ অক্টোবর কোচবিহার জেলা তৃণমূলের ব্লক কমিটি ঘোষণা হলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক। এর পরই তিনি দলের যাবতীয় সাংগঠনিক পদ ছেড়ে দেন। সাংগঠনিক পদত্যাগ করার পর নিজের কার্যালয়ে লাগানো তৃণমূলের পতাকা-সহ সমস্ত ব্যানার খুলে ফেলেন মিহিরবাবু। কার্যালয়ের সামনে নতুন ব্যানারে লেখা হয়, “কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক মিহির গোস্বামীর কার্যালয়”।

ধর্মসভার সেই কার্যালয়ের ভিতরে থাকা মুখ্যমন্ত্রী ছবি সরিয়ে সেখানে স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো মনীষীদের ছবি লাগানো হয়। সম্প্রতি রাজ্যের দুই মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ মিহিরের বাড়িতে গিয়েও তাঁর দেখা পাননি।

যদিও তার আগের দিনই কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক বাড়িতে গিয়ে তৃণমূল বিধায়কের সঙ্গে দেখা করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সব মিলিয়েই মিহিরবাবুর দলবদল সম্ভাবনা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে৷

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।