নয়াদিল্লি : করোনার সেকেন্ড ওয়েভে দিশেহারা দেশ। বাজারে ভ্যাক্সিন চলে আসলেও কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছে না অদৃশ্য এই ব্যাধিকে। বরং প্রতিদিনই হু-হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা। আর এই অবস্থায় সংক্রমণের চেন ভাঙতে সোমবার থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে রাজধানী দিল্লিতে।

আপ সুপ্রিমো তথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের এই লকডাউন ঘোষণার পরই ফিরে এল আগের বছরের সেই পরিযায়ী শ্রমিকদের নিদারুণ অসহায়তার ছবি। দিল্লিজুড়ে লকডাউন জারি হতেই সোমবার গাজিয়াবাদের আনন্দ বিহার বাস টার্মিনাসে গেল পরিযায়ীদের বাড়ি ফেরার তাড়া। ঘরে ফেরার আশায় শয়ে শয়ে শ্রমজীবি মানুষেরা ভিড় করছেন দিল্লির বিভিন্ন বাস টার্মিনালে। নেই সামাজিক দূরত্ব। করোনার দাপট উপেক্ষা করেই ঘরে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন অসহায় ওই পরিযায়ীরা।

গত বছরও লকডাউনের সেই বিভীষিকাময় দিনগুলিতে ট্রেনে বাসে এমন ছবিই দেখা গিয়েছিল। সংবাদ মাধ্যমের পৃষ্ঠাজুড়ে শুধুই ফুটে উঠেছিল তাঁদের হাহাকার আর্তনাদের ছবি ও কথা।

এবছরও যেন সেই ছবির অন্যথ্যা হচ্ছে না। যেখানে খোদ আপ সুপ্রিমো বলছেন তিনি সবসময় সবরকম ভাবে পরিযায়ীদের পাশে আছেন। তা সত্ত্বেও ট্রেনে বাসে পরিযায়ীদের ভিড় বুঝিয়ে দিচ্ছে ঘরে ফিরতে কতটা মরিয়া তাঁরা।

অন্যদিকে একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার অরবিন্দ কেজরিওয়াল রাজধানীতে লকডাউন ঘোষণা করার পরই অন্তত পাঁচ হাজার পরিযায়ী শ্রমিকেরা আনন্দ বিহার বাস টার্মিনাসে বাড়ি ফেরার জন্য ভিড় করেছেন। মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। অনেকেরই মুখে নেই মাস্ক। ফলে একদিকে যেমন রয়েছে সংক্রমণের ভীতি তেমনই লকডাউনে আটকে পড়লে কী হবে সেই দোলাচলে কাজেই বাড়ি ফিরতে মরিয়া তাঁরা।

এদিকে সোমবার রাত ১০ টা থেকে লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পরও পরিযায়ী শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “এবারের লকডাউন দীর্ঘ মেয়াদি হবে না। আপনারা আমার উপর ভরসা রাখতে পারেন। আপনাদের পাশে আপ সরকার সবসময় আছে।”

যদিও এই বিষয়ে দিল্লি পুলিশের এক পদস্থ অফিসার বলেন, “কোনও রকম আগাম প্রস্তুতি ছাড়াই মুখ্যমন্ত্রীর এই লকডাউন ঘোষণা পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে। ফলে আগাম সতর্কতা হিসেবে ঘরে ফিরতে উদগ্রীব তাঁরা।”

অন্যদিকে, মুকেশ প্রতাপ নামে উত্তরপ্রদেশের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, “পেটের টানে সুদূর দিল্লি এসে একটি কাপড়ের কারখানায় কাজ করলেও লকডাউনে কাজ হারানোর ভয় রয়েছে। ফলে আগে থাকতেই বাড়ি ফিরে যাওয়ায় বুদ্ধিমানের কাজ।”

একই ছবি দেখা গিয়েছে রাজধানীর অন্যান্য প্রান্তেও। সবার বক্তব্য একটাই। লকডাউনে কাজ হারালে খাব কী? সরকার কোনও সাহায্য করবে না। সেই কারণেই বাড়ি ফিরে যাওয়া।

উল্লেখ্য, গত বছরও করোনা মহামারীর শুরুতে দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা হওয়ায় বিপাকে পড়েছিলেন অসংখ্য দিন আনা দিন খাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকেরা। সেই সময় তাঁদের জন্য বিশেষ ট্রেন বাসের ব্যবস্থা করা হলেও পাস যোগার করতে না পারায় বহু শ্রমিককে পায়ে হেঁটে বা রেললাইন ধরে ঘরের উদ্দেশ্যে রওনা হতে হয়েছিল।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.