তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: করোনা সতর্কতায় ‘লকডাউনে’র পরে দিল্লির আনন্দ বিহার বাস স্ট্যান্ডের ছবিটার পুনরাবৃত্তি ঘটলো এরাজ্যেও। স্থানীয় মানুষের তাড়া আর পুলিশের চোখ রাঙানি সহ্য করে বাঁকুড়া-পুরুলিয়া সীমান্তে চরম দুর্দশার মধ্যে কখনও জঙ্গল আবার কখনও রেল ব্রিজের নিচে চরম অসহায়তার মধ্যে দিন কাটছে ভিন রাজ্য থেকে আসা জনা চল্লিশ পরিযায়ী শ্রমিকের।

প্রতিবেশী রাজ্য বিহারের মুঙ্গের ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জায়গা থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা এলাকায় হিমঘরে কাজ করতে এসেছিলেন। আবার কেউ হাওড়ার কারখানায় কর্মরত ছিলেন। প্রত্যেকেই মূলতঃ মুটে মজুরের কাজই করতেন। হঠাৎ দেশ জুড়ে লক ডাউন ঘোষণায় সব যেন ওলট পালট হয়ে গেল। বন্ধ হলো কাজ, বন্ধ হয়ে গেলো সমস্ত ধরণের পরিবহন ব্যবস্থা।

একদিকে অর্থের অভাব, অন্যদিকে চরম অনিশ্চয়তাকে সঙ্গী করে নিজেদের জিনিসপত্র বেঁধে পায়ে হেঁটেই রওনা দিলেন বাড়ির পথে। এভাবে রেল লাইন ধরে হাঁটতে হাঁটতে একদিন প্রত্যেকেই পৌঁছলেন পুরুলিয়ার আদ্রার কাছে। পুরুলিয়া পুলিশের বাধা পেয়ে আবার পিছনে হাঁটা, এমনটাই অভিযোগ ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের। পরে তারা আশ্রয় নিলেন বাঁকুড়া-পুরুলিয়া সীমান্তের ডাংরা নদীর রেল ব্রিজের নিচে।

এই অবস্থায় গত চার দিন ধরে একেবারে কিছু না খেয়েই ওখানেই আটকে আছেন ৪০ জন পরিযায়ী শ্রমিক। একদিকে খাবার নেই, অন্যদিকে রোগ সংক্রমণের ভয়ে স্থানীয় মানুষদের তাড়া খেয়ে আত্মগোপন করেই রয়েছেন ওরা। ভবিষ্যৎ কি হবে জানেননা কেউ। প্রত্যেকেরই এখন একটাই আকুতি, পরিবার পরিজন অপেক্ষায় আছেন কখন ঘরে ফিরবে ঘরের মানুষটি। যেভাবেই হোক প্রশাসন দায়িত্ব নিয়ে তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে দিক এমনটাই চাইছেন তারা সকলেই।

ওই দলে থাকা সঞ্জয় যাদব, নিরজ যাদব, বিশ্বেশ্বর যাদবরা প্রত্যেকেই তাদের দুরবস্থার কথা জানিয়ে বলেন, এভাবে আর কত দিন! এই অসহায় অবস্থা থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হোক।