স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: করোনা সংক্রমনের জেরে দেশজুড়ে লকডাউন। ইতিমধ্যে গৃহবন্দি দশার দুই মাস অতিক্রান্ত। তবুও অমিল স্বস্তি।

লকডাউনের জেরে সবচেয়ে করুন অবস্থা ভিন রাজ্যে আটকে থাকা শ্রমিকদের। ফের ভিনরাজ্য থেকে মালদহে ফেরার পথে উত্তরপ্রদেশে বাস দূর্ঘটনায় মৃত্যু হল দুই পরিযায়ী শ্রমিকের। আহত বেশ কয়েকজন শ্রমিক।

ঘটনাটি ঘটেছে, উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদ এলাকার এপি জাতীয় সড়কে।আর এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে মালদহের পরিযায়ীদের গ্রামে। পরিবারের দাবি, এই পরিস্থিতে অসহায় তাঁরা।  পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দুই পরিযায়ী শ্রমিকের নাম মহবুল আলি(২৮) ও জাহির আলী (৩২)। তবে মৃত বাস চালকের নাম জানা যায়নি।

মৃত মহবুল আলির বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুর-২ নং ব্লকের দৌলতপুর গ্রামপঞ্চায়েতের বেজপুরা গ্রামে এবং মৃত জাহির আলির বাড়ি চাঁচল ব্লকের মতিহার পুর গ্রামপঞ্চায়েতেয় ডোমাপীর এলাকায়।দূর্ঘটনা স্থলে বাস চালক মারা যায় বলে খবর।

স্থানীয় লোকজন ও অন্যান্য পরিযায়ী শ্রমিকরা রক্তাক্ত অবস্থায় দুই পরিযায়ী শ্রমিককে পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। তবে দূর্ঘটনাটি কিভাবে ঘটেছে তার তদন্ত শুরু করেছে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ।

পরিযায়ী শ্রমিক মহম্মদ সাকিল ও ইরফান আলিরা জানান, এদিন চাঁচল মহকুমার প্রায় ৩১ জন পরিযায়ী শ্রমিক একটি বাসে করে দিল্লি থেকে উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদ হয়ে মালদার চাঁচল মহকুমায় আসার পথে ফিরোজাবাদ এলাকায় এপি জাতীয় সড়কে বাসের টায়ার পাংচার হয়ে যায় বলে জানান। চালক সহ বেশ কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিক বাস থেকে নেমে যায়।চালক পাংচার সারার সময় পিছন দিক দিয়ে অপর একটি বাস সজোরে ধাক্কা মারলে বাস চাপা পড়ে চালক ঘটনা স্থলে মারা যায় বলে জানান ।

তড়িঘড়ি করে স্থানীয় লোকজন ও পরিযায়ী শ্রমিকরা রক্তাক্ত দুই পরিযায়ী শ্রমিককে পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তারবাবুরা মৃত্যু বলে ঘোষণা করেন।মৃত দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান।

উত্তরপ্রদেশের পুলিশ বিহারের বাসে করে ২৯ জন পরিযায়ী শ্রমিককে বিহারে পাঠিয়ে দেন।তারা আবার অন্য বাস ধরে শনিবার মালদার চাঁচল মহকুমায় পৌঁছাবে বলে জানান।মৃত দেহ ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে দুই পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবার।

জাহির আলীর স্ত্রী রুমা বিবি বলেন, “লকডাউনের দুই মাস আগে সেলাইয়ের কাজ করতে দিল্লিতে গিয়েছিলেন। লকডাউনের কারণে তাঁরা সেখানে আটকে পড়েন। এরপর শুক্রবার বিকেলে স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছিল শেষ। সেই সময় জানিয়েছিল শনিবার তাঁরা বাড়িতে ফিরে আসছে বাসে করে। আমরা চাইআমার স্বামীর মৃতদেহ আমাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।”

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV