অমৃতসর: “পাপা প্লিজ তুমি বাড়ি চলে এসো।” প্রতিটা কলেই বাবার কাছে এমন আর্জি জানাচ্ছে ২ বছরের ছোট্টো খুদে।

কারণ, দেশ জুড়ে যখন লকডাউন চলছে, তখন মেয়ের থেকে অনেক দূরে রয়েছেন নিরুপায় বাবা টিনকু সিং। দিন আনা দিন খাওয়া সংসারে কাজ না করলে পেট চলবে কীভাবে? তাইতো রুটি রুজির টানে ভিনরাজ্যে গিয়ে লকডাউনের জেরে আটকে পড়েছেন টিনকুর মতো অনেকেই। যারা প্রত্যকেই রাজমিস্ত্রির কাজে যুক্ত। ওদের আর্জি একটাই সরকার যেন দ্রুত তাদের ঘরে ফেরার ব্যবস্থা করেন। কারন, শত মাইল দূরে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় পথ চেয়ে বসে আছে তাদের হতভাগা বৌ-ছেলে মেয়েরা।

এই অবস্থা শুধু টিনকুর একার নয়। উওরপ্রদেশ থেকে পাঞ্জাব এবং হিমাচল প্রদেশ সহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলায় কাজ করতে যাওয়া প্রায় ১১জন শ্রমিকের। যাদের প্রত্যেকেরই বাড়ি যোগীর রাজ্য উত্তরপ্রদেশে।

পাঞ্জাবের রুপনগর জেলায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়েছিলেন ২৭ বছর বয়সী টিনকু সিং। এদিন তিনি একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে জানান যে, সবেমাত্র ৩ বছর হয়েছে সে বিয়ে করেছে। বাড়িতে তার বাবা-মা স্ত্রী ছাড়াও ২ বছরের শিশুকন্যা নন্দিনী রয়েছে। এই অবস্থায় লকডাউনের জেরে পাঞ্জাব থেকে সে কীভাবে সে আগ্রা পৌঁছাবে সেটাই বুঝতে পারছেন না। ওদিকে ফোনের অপর প্রান্তে বারবার তাঁকে দ্রুত ঘরে ফিরে আসার আর্জি জানাছেন পরিবারের সদস্যরা। কারন, যেভাবে ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তাতে কখন কি অঘটন ঘটে যাবে সেই দুশ্চিন্তায় চোখের পাতা এক করতে পারছেন না টিনকুর স্ত্রী মিনা দেবীও।

টিনকু আরও জানান,তাঁরা পাঞ্জাবের রূপনগর জেলায় মাসিক ২ হাজার টাকার বিনিময়ে একটা ঘর ভাড়া নিয়ে থাকেন। সেখান থেকেই প্রতিদিন রাজমিস্ত্রির কাজে বের হন তারা। প্রতিদিন ৫০০ টাকা মজুরীতে একাজ করলেও করোনা আতঙ্কের জেরে, সব কাজই এখন বন্ধ তাদের। ফলে এই অবস্থায় একদিকে রোজগার নেই, অন্যদিকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত খাবার মজুত ছিল। এই অবস্থায়, একদিকে কাছে মাত্র ১০০০ টাকা পড়ে রয়েছে তার। অন্যদিকে মজুত খাদ্যও শেষের মুখে। ফলে এই অবস্থায় সরকার এবং পাঞ্জাব-উত্তর প্রদেশ পুলিশ প্রশাসন তাদের পাশে এসে না দাঁড়ায় তাহলে আর কোনওদিন বৌ-মেয়ের কাছে পৌঁছাতে পারবে কিনা তা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারছেন না ভিনরাজ্যের এই দিনমজুর। যদিও একই অবস্থা তার মতো আরও ১২ জন শ্রমিকের। যারা প্রত্যেকেই নিজের রাজ্য ছেঁড়ে ভিনরাজ্যে এসেছেন দুপয়সা বেশী উপার্জনের জন্য। কিন্তু ভাগ্যের নিদারুণ পরিহাস এবং জনতা কার্ফু, লকডাউনের জেরে পরিবার থেকে এখনও শতমাইল দূরে ওরা।

যদিও, বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরই দ্রুত ওই শ্রমিকদের খাদ্য এবং বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করে পাঞ্জাব সরকার। এই বিষয়ে সাহায্যের জন্য যোগাযোগ করা হয় যোগী সরকারের সঙে।

এই বিষয়ে কারতারপুরের জেলা শাসক সোনালী গিরি বলেন, “টিনকু সিং সহ ১২ জন শ্রমিকের আটকে পড়ার বিষয়টি এদিন সংবাদমাধ্যমেই জানতে পারি। এরপর দ্রুত তাদের সঙে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। শুধু তাই নয়, ওই শ্রমিকেরা যাতে অভুক্ত না থাকে সেই জন্য তাঁদের কাছে আটা, চাল, ডাল,ও তেল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত তাঁরা সকলেই ঘরে ফিরতে পারবেন।”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।