শংকর দাস, বালুরঘাটঃ স্কুলের শিক্ষক থেকে শুরু করে স্কুল পরিদর্শক, কেউই দায়িত্ব নিতে রাজি না হওয়ায় গত দুই মাস ধরে মিড-ডে মিল বন্ধ হয়ে রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীরা নিয়মিত স্কুলে এলেও মিড-ডে মিলের রান্না না হওয়ায় খিদে পেটে নিয়েই তাদের পড়াশোনা করতে হচ্ছে। খিদের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে অনেকে টিফিনের সময় বাড়ি ফিরে যেতেও বাধ্য হচ্ছে। গত দুই মাস ধরে এমনই করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরের শিশা জুনিয়র হাই স্কুলে। সমস্যার সমাধান ও পুনরায় মিডডে মিল চালুর দাবিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের নিকট আবেদন জানালেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না বলে অভিযোগ।

দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশিহারি ব্লকের অন্তর্গত শিশা জুনিয়র হাই স্কুল। কুলটিতে পড়ুয়া সংখ্যা ১২৮ জন। প্রধান ও সহকারী মিলিয়ে মোট পাঁচ জন শিক্ষকও রয়েছেন স্কুলটিতে। পরিচালন কমিটির সেক্রেটারির দায়িত্বে থাকা স্কুল পরিদর্শক দুই মাস আগে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। মিড-ডে মিল পরিচালনার দায়িত্ব স্কুলেরই সহকারি শিক্ষকদের কাউকে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েই দায় সেরেছেন তিনি। কিন্তু সরকারী নির্দেশিকা ব্যতিত স্কুলের সহকারী শিক্ষকরা কেউই সেই দায়িত্ব নিতে রাজি হচ্ছেন না। মিড-ডে মিলের পরিচালকের দায়িত্ব কে সামলাবেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। অগত্যা মিড-ডে মিল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

 

ফলে মিড ডে মিলের রান্না করা খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পড়ুয়ারা। দ্রুত মিড-ডে মিল চালুর ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্কুলের তরফে বিডিও স্কুল-পরিদর্শক সহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে আবেদনও করা হয়েছে বলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেবতোষ হেমরম জানিয়েছেন। তিনি একথাও বলেন মুদি দোকানদার ও রাধুনির দায়িত্বে থাকা স্ব-নির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা বিগত কয়েক মাসের বকেয়া টাকা পাবেন।

বর্তমানে মিড-ডে মিলের কোন পরিচালক না থাকায় তা শোধও করা যাচ্ছে না। বহুদিন কেটে গেলেও প্রশাসনের তরফে কেউ এব্যাপারে কোন আগ্রহ না দেখানোই পড়ুয়ারা বঞ্চিত হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। এবিষয়ে বংশিহারী ব্লকের বিডিও সুদেষ্ণা পাল জানিয়েছেন যে শিশা জুনিয়ার হাইস্কুলে দুই মাস ধরে মিড-ডে মিল বন্ধ হয়ে রয়েছে এরকম কোন ঘটনা তাঁর জানা নেই। বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

 

এব্যাপারে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাপরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ প্রবীর রায় জানিয়েছেন ঘটনাটি খুবই লজ্জাজনক। কে দায়িত্ব নিবেন তার জন্য ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে এসে খাবার পাবে না এটা কখনই মেনে নেওয়া যাবে না। স্থানীয় ব্লক প্রশাসন থেকে শুরু স্কুল শিক্ষা দপ্তর কেউই এবিষয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। যতদ্রুত সম্ভব শিশা জুনিয়ার হাইস্কুলে পুনরায় মিড-ডে মিল চালুর ব্যাপারে জেলা স্কুল পরিদর্শককে তিনি নির্দেশ দিচ্ছেন বলেও শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ জানিয়েছেন।