স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: প্রাথমিক স্কুলের মিডডে মিলের রান্না করা হচ্ছে আর্সেনিক যুক্ত জলে। সেই খাবারই খাচ্ছে ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীরা। এই আর্সেনিক যুক্ত জল ডেকে আনছে ভয়ঙ্কর ক্ষতি। অথচ শিক্ষা দফতরে বারবার জানালেও কোনও লাভ মেলেনি৷ ঘটনাটি ঘটে চলেছে মালদহ শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে দারশালা গ্রামে। প্রসাসন পাশে না থাকায়, কোনও উপায় বের করে উঠতে পারছেন না বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷

জানা গিয়েছে, মালদহ জেলার ১৫টি ব্লকের মধ্যে প্রায় ১০টিরও বেশী ব্লকের জলে আর্সেনিক রয়েছে। আর্সেনিক রোগে আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার। প্রতিবছর এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। আর্সেনিক মুক্ত পানীয় জল ইউনিট এই জেলাতে রয়েছে বটে, তবে সব জায়গায় আর্সেনিক মুক্ত পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা নেই।

বিশেষ করে জেলার অধিকাংশ প্রাইমারী সহ উচ্চ বিদ্যালয়ে আর্সেনিক মুক্ত পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। ফলে সেই আর্সেনিক যুক্ত জল দিয়েই হচ্ছে শিশুদের মিড ডে মিলের রান্না। মালদহ জেলার কালিয়াচক ১,২,৩ ব্লক, রতুয়া ১ ও ২ নং ব্লক, চাঁচোল সহ ইংরেজবাজার ব্লকেও রয়েছে আর্সেনিকের প্রকোপ৷

আরও পড়ুন : মুখ্যমন্ত্রীর কোনও চরিত্র নেই, প্রশান্ত কিশোরের কথায় এখন চা বানাচ্ছেন: লকেট

এই ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়ে নেই আর্সেনিক মুক্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা। এই সব এলাকার পিএইচই মাধ্যমে জল সরবরাহ হয়। মাটি থেকে উত্তোলন করে জল সরবরাহ হয়। মালদহ প্রশাসনিক কর্তাদের দফতর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইংরেজবাজার থানার অমৃতি দারসল্লা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যবস্থা হয়নি আর্সেনিক মুক্ত পানীয় জলের। তাই ছবিটা এমনই দুর্বিসহ।

আর্সেনিক যুক্ত জলেই হচ্ছে মিডডে মিলের রান্না। আর শিশুদের শরীরে প্রবেশ করছে বিষ। এক অভিভাবক সুমিত মন্ডল বলেন, স্কুলের কলের জলে যথেষ্ট আর্সেনিক রয়েছে৷ এখানে কোন ব্যবস্থা নেই। আমরা বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এই জল পানের ফলে চর্ম রোগ, পেটে ব্যাথা নিত্য সঙ্গী হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের। কিন্তু উপায় কি?

স্কুলের প্রধান শিক্ষক নগর মন্ডল বলেন, এদিকে ৪টাকা ৪৮পয়সায় খাওয়ার দেওয়া অসম্ভব৷ কর্তৃপক্ষ বারংবার আবেদন করেছেন আর্সেনিক মুক্ত পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থার জন্য। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কর্ণপাতও করেননি আর্সেনিক মুক্ত পানীয় জল ব্যবস্থার।

জেলা পরিষদ সদস্য অর্চনা মন্ডল বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। আমি জেলা পরিষদে কথা বলে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা