স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: এককথায় নজিরবিহীন…৷বাজেট বক্তৃতা পেশের পরই অধ্যক্ষের ঘরে একান্তে বৈঠক করলেন রাজ্যপাল, অধ্যক্ষ ও মুখ্যমন্ত্রী৷ প্রায় ৩০ মিনিট বৈঠকের পর বাইরে বেরিয়ে ফের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেল রাজ্যপালকে৷ বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে তা নিয়ে মুখ খোলেনি কোনও পক্ষই৷

শুক্রবার বিধানসভায় বাজেট বক্তৃতা শেষ করার পর বেরিয়ে যাচ্ছিলেন রাজ্যপাল৷ হঠাৎ ফিরে এসে প্রথা ভেঙে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে যান তিনি৷ তাঁর কিছুক্ষণের মধ্যেই অধ্যক্ষের ঘরে প্রবেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ প্রায় ৩০ মিনিট বৈঠক হয় বৈঠক হয় তিনজনের৷ রুদ্ধদ্বার সেই বৈঠক ঘিরে তীব্র কৌতুহল ছড়ায় বিধানসভা চত্বরে৷

এদিন, সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাজ্য সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ পাঠ করেন রাজ্যপাল৷ উল্লেখ্য, রাজ্যপাল বনাম সরকার সংঘাতের পরিবেশ অনেকদিন ধরেই জমজমাট রাজ্যে। তার মধ্যেই বাজেট নিয়ে তৈরি হয় নতুন সংঘাতের পরিবেশ। বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল ঘোষণা করেছিলেন সরকারের তৈরি করে দেওয়া বক্তৃতার সঙ্গেই তিনি বিভিন্ন বিষয়ে নিজস্ব বক্তব্যও জানাবেন। তাঁর দাবি, এটা তিনি করবেন তাঁর সাংবিধানিক অধিকারের সীমা লঙ্ঘন না করে। এদিন শান্তিনিকেতনে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘‘সরকার রাজ্যপালের ভাষণের মাধ্যমে নিজের নীতি বলতে পারে। কিন্তু আমিও আমার প্রস্তাব দিতে পারি। আমি সরকারের ভাষণ পাঠ করব, কিন্তু নিজের প্রস্তাবও দেব। আমার ভাষণে সরকারের বক্তব্যের উপর টিপ্পনী থাকবে। প্রয়োজনীয় অংশে নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও মতামতও জানাব।’’

কিন্তু এদিন রাজ্যের লিখে দেওয়া ভাষণের বাইরে গিয়ে রাজ্যপালকে একটি শব্দও বলতে শোনা গেল না৷ ভাষণে CAA আতঙ্কে মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাজ্যপাল। শ্রদ্ধা জানান CAA আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে মৃতদের স্মৃতির প্রতিও। এমনকী দেশে ধর্মীয় বিবিধতা সঙ্কটের মুখে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তুলে ধরেন রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সাফল্যের খতিয়ান।

বিধানসভা থেকে বেরোনোর সময় রাজ্যপালকে এগিয়ে দেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদায়বেলায় রাজ্যপালের হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিধানসভা থেকে রওনা দেওয়ার কিছুক্ষণ পর এক টুইটে রাজ্যপাল লেখেন, মহান সাংবিধানিক ঐতিহ্য মেনে আমি আজ আমার বক্তব্য রেখেছি। আশা করি প্রত্যেকেই সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করবেন। এটাই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি ও জনতার সেবা করার পথ। আশা করি প্রশাসনিক দায়িত্বে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা সংবিধানকে অপ্রাসঙ্গিক না করে নিয়ম রপ্ত করবেন।