স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আগামী রবিবার পর্যন্ত সিপিএমের সঙ্গে আসন সমঝোতার ক্ষীণ সম্ভাবনা জিইয়ে রাখল প্রদেশ কংগ্রেস৷ দলের বর্ষীয়ান নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য ও বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানকে বামেদের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে৷ বুধবার নির্বাচনী কমিটির বৈঠকের পর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র একথা জানিয়েছেন৷একই সঙ্গে তিনি জানান, রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদের দাবি কংগ্রেস ছাড়বে না৷

সিপিএমের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভোটে লড়ার শত ইচ্ছে থাকলেও কোনরকম অসম্মান সহ্য করবে না কংগ্রেস৷ আগাগোড়াই একথা বলে আসছেন প্রদেশ সভাপতি সোমেন মিত্র৷ বামফ্রন্ট কংগ্রেসকে ১২টি আসন ছাড়বে যার মধ্যে রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদ নেই৷ আলিমুদ্দিনের কর্তাদের এমন কথা প্রকাশ পাওয়ার পরই বিধান ভবনের কর্তাদের অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন বামেদের সঙ্গে তাদের জোট প্রায় কফিনবন্দি হয়ে গেল৷

তবে বুধবার দলে সিপিএম জোটপন্থীদের খানিকটা আশার আলো দেখিয়েছেন প্রদেশ সভাপতি৷ তিনি জানান, আগামী রবিবার পর্যন্ত প্রদীপ ভট্টাচার্য ও আব্দুল মান্নানকে বামফ্রন্ট নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছে। তারপরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কংগ্রেস। এদিন সোমেন আরও জানান, “২০২১ পর্যন্ত জোট সম্পর্ক করতে চেয়েছিল কংগ্রেস। বামেরা তাতে সায় দেয়নি। সেক্ষেত্রে বামেদের বক্তব্য ছিল, জোট নয়, কেবল আসন সমঝোতাই সম্ভব কংগ্রেসের সঙ্গে।”

মুর্শিদাবাদ ও রায়গঞ্জ লোকসভা আসন দুটিকে কেন্দ্র করেই ভেস্তে যেতে বসেছে কংগ্রেস-সিপিএম জোট সম্পর্ক। সিপিএম মুর্শিদাবাদ ও রায়গঞ্জ লোকসভা আসনের দাবি ছাড়তে নারাজ। কারণ ২০১৪ সালে এই দুটি আসনেই জয় পেয়েছিল তারা। তাদের শরিক দল ফরওয়ার্ড ব্লক আবার পুরুলিয়া আসন ছাড়তে রাজি নয়৷ বামেদের যুক্তি মানতে রাজি নন সোমেন মিত্র৷ তিনি বলেন, “পরিস্থিতি বদলেছে৷ ২০১৪ সালে আর ২০১৯ সালের ভোট এক নয়৷ কংগ্রেস ছেড়ে কেউ সিপিএমে যাইনি৷ কিন্তু সিপিএম ছেড়ে কংগ্রেসে এসেছে৷ সংখ্যালঘুদেরও একটা বড় অংশ কংগ্রেসের সঙ্গে রয়েছেন৷”

সূত্রের খবর, বামেদের সঙ্গে জোট করে যিনি বিধানসভা নির্বাচন করেছেন সেই অধীর চৌধুরী এদিন বৈঠকে প্রয়োজনে একলা লড়াইয়ের কথা বলেছেন৷ তার কারণ তিনি মুর্শিদাবাদে আবু হেনাকে প্রার্থী করতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন৷ সেক্ষেত্রে আসন সমঝোতা হলে বামেরা মুর্শিদাবাদ আসন ছাড়তে রাজি নয়৷ মুর্শিদাবাদ আসনের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের যুক্তি, জোট হলেও কংগ্রেসের ভোটার বা কর্মীরা সেখানে সিপিএম প্রার্থীকে ভোট দেবেন না। ২০১৬ সালের বিধানসভার ভোট সেই শিক্ষাই দিয়েছে বলে দাবি কংগ্রেসের।

অন্যদিকে, যে আব্দুল মান্নানকে বামেদের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এদিন সন্ধ্যায় তিনি বলেন, “এত বড় দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আমার কাঁধ চওড়া হয়নি।” উল্লেখ্য, এদিন বিধানভবনে মান্নান বিরোধী পোস্টার পরে৷ তাঁর জেলা হুগলির কংগ্রেস কর্মী সমর্থকরা তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন৷ তাদের অনেকেরই বক্তব্য, মান্নান সাহেবের জন্যই জোট ভেস্তে যাচ্ছে৷ তবে সিপিএমের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে বৈঠকে হাজির মাটিগাড়া নকশালবাড়ির কংগ্রেস বিধায়ক শঙ্কর মালাকার বলেন, “জোট হোক বা না হোক পাঁচ সাতটি লোকসভা আসনে আমাদের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই জোট হল কিনা হল তাতে আমাদের কিছু এসে যায় না।”