কলকাতা: সবুজ প্রাণবন্ত পিচ৷ ইডেনের বাইশগজ বোলারদের জন্য কতটা অনুকূল ছিল তা বোঝা যায় ম্যাচের গতিপ্রকৃতি দেখলেই৷ কর্ণাটকের তারকাখচিত ব্যাটিং লাইনআপ বাংলার পেসারদের সামনে দুই ইনিংস যথাক্রমে ১২২ ও ১৭৭ রানে গুটিয়ে যায়৷

এমন সজিব পিচে কর্ণাটকের হয়ে একমাত্র দেবদূত পাডিক্কল ছাড়া হাফ-সেঞ্চুরি করতে পারেননি আর কেউই৷ বাংলার ব্যাটসম্যানদেরও হাতের তালুর মতো চেনা ইডেনে কার্যত অসহায় দেখিয়েছে৷ ব্যাটসম্যানদের জন্য এমন প্রতিকূল পরিবেশেও ব্যতিক্রমী হয়ে দেখা দেন অনুষ্টুপ মজুমদার৷ প্রথম ইনিংসে অপরাজিত থাকেন ১৪৯ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে৷ দ্বিতীয় ইনিংসে করেন লড়াকু ৪১৷ স্বাভাবিকভাবেই বোলারদের স্বর্গ রাজ্যে এমন অতিমানবিক ব্যাটিংয়ের জন্য সেমিফাইনালের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন অনুষ্টুপ৷

আরও পড়ুন: BREAKING: ১৩ বছর পর আবার রঞ্জি ফাইনালে বাংলা

দলকে ফাইনালে তোলার পর সেমিফাইনালের নায়ক অনুষ্টুপ নিজের এমন অনবদ্য পারফরম্যান্সের রহস্য জানান৷ তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরে খেলছি৷ এর আগেও অনেক ম্যাচে চাপের মুখে ব্যাট করেছি৷ ১০ বছর আগের রুকু আর এখনকার রুকু এক নয়৷ এখন আমার মানসিক দৃঢ়তা অনেক বেশি৷ এখন যে রকম পরিস্থিতিতেই পড়ি না কেন, একইভাবে নিজেকে প্রয়োগ করতে পারি৷ এই পরিণতিবোধটাই আমাকে মাথা ঠাণ্ডা রেখে যে কোনও পরিস্থিতিতে নিজের খেলা খেলতে সাহায্য করে৷ আর যাই হোক, নিজের স্বাভাবিক খেলা খেলতে না পারলে ধারাবাহিকতা দেখানো সম্ভব নয়৷ বার বার নিজের খেলার স্টাইল বদলাতে চাইলে সেরাটা বেরোয় না৷’

গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নিজেকে কীভাবে তৈরি করেন, সে সম্পর্কে অনুষ্টুপ বলেন, ‘সব ম্যাচের আগে আমার নিজস্ব একটা প্রস্তুতি থাকে৷ ম্যাচের আগের দিন প্রতিপক্ষ বোলারদের ভিডিও দেখি৷ তাছাড়া আমি ৬ নম্বরে ব্যাট করি৷ তাই আমার আগের ব্যাটসম্যানদের কোন বোলার কেমন বল করছে, সেটা সেখার সুযোগ পাই৷ ক্রিজে গিয়ে সেই মতো নিজেকে প্রয়োগ করার চেষ্টা করি৷’

আরও পড়ুন: ইশান জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত: অরুণ লাল

চলতি রঞ্জি অভিযানে বাংলার টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা তেমনভাবে দৃঢ়তা দেখাতে পারেননি৷ টপ অর্ডারে ধস নামলে প্রায়শই অনুষ্টুপকে ব্যাট করতে হয়েছে নতুন বলে৷ এ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘বেশ কয়েকটা ম্যাচে নতুন বলে ব্যাট করতে হয়েছে৷ যদিও সেটা দলের জন্য ভালো দিক নয়৷ তবে আমি নিজেকে তৈরি রাখি সব পরিস্থিতির জন্য৷ তাই নতুন বলে প্রচুর অনুশীলন করেছি৷ আশা করি ফাইনালে আমাদের টপ অর্ডার বড় রান করবে এবং আমাদের ভালো জায়গায় পৌঁছে দেবে৷ তবে আগেও বলেছি যে, যথাযথ প্রস্তুতি থাকলে যে কোনও পরিস্থিতিতেই সফল হওয়া যায়৷’

অনুষ্টুপ অবশ্য শুধু সেমিফাইনালের প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিকেই নয়, দ্বিতীয় ইনিংসের ৪১ রানকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন৷ তাঁর মতে, ‘ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্বিতীয় ইনিংসে আমার ৪১ রান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল৷ কেননা আমাদের ক্রিজে সময় কাটাতে হতো৷ সেই সঙ্গে রানও তুলতে হতো৷ সুদীপ ও শাহবাজের সঙ্গে আমার পারর্টানশিপ দু’টো তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল৷ আমি ঠিক করেই রেখেছিলাম যে যাই হোক, শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করব৷’

আরও পড়ুন: বোলারদের পর্যাপ্ত রসদ জোগাতে ব্যর্থ ব্যাটসম্যানরা, সিরিজ হার প্রসঙ্গে জানালেন কোহলি

শেষে রঞ্জিতে বাংলার এমন অভাবনীয় উত্থানের পিছনে কোচ অরুণ লালের প্রভূত অবদান রয়েছে বলে জানান অনুষ্টুপ৷ তাঁর কথায়, ‘আমাদের এবারের রঞ্জি অভিযানে কোচ অরুণ লালের ভূমিকা প্রচুর৷ প্রথম দিন থেকে কোচ আমাদের রঞ্জি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন৷’