mens-breast-cancer-growing-in-kolkata

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: শুধুমাত্র মহিলাদের মধ্যে নয়৷ পুরুষদের মধ্যেও স্তনের ক্যান্সার বাড়ছে কলকাতায়৷ এ জন্য অন্যতমভাবে দায়ী বদলে যাওয়া অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন৷

কারণ, পরিবর্তিত জীবনযাপনে নিয়ন্ত্রণ আনতে সমর্থ হলেই ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রে এড়ানো সম্ভব স্তনের ক্যান্সার৷ এমনই বলছেন বিশেষজ্ঞরা৷ অথচ, সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও পর্যন্ত সেভাবে সচেতনতাও বাড়েনি৷ যার জেরে, বিশেষত শহরাঞ্চলে বাড়ছে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যাও৷ আর যে কারণে, কলকাতার পুরুষদের মধ্যেও এখন আগের তুলনায় স্তনের ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে৷

কলকাতায় পুরুষদের মধ্যে স্তনের ক্যান্সার কত শতাংশ হারে বাড়ছে, সে বিষয়ে সঠিক তথ্য জানতে কোনও সমীক্ষা অবশ্য এখনও পর্যন্ত হয়নি৷ যদিও, মহিলা এবং পুরুষ মিলিয়ে যত সংখ্যক আক্রান্ত স্তনের ক্যান্সারে, তার মধ্যে মাত্র এক শতাংশ রয়েছেন পুরুষরা৷ তবে, এ শহরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চেম্বারে বর্তমানে এমন অনেক পুরুষ রোগী আসছেন, যাঁরা স্তনের ক্যান্সারে আক্রান্ত৷ কলকাতার ওই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগের তুলনায় এখন স্তনের ক্যান্সারে আক্রান্ত অনেক বেশি পুরুষ রোগী আসছেন তাঁদের চেম্বারে৷ এমনটা তাঁরা গত কয়েক বছর ধরেই দেখছেন৷

সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য যেমন কোনও কোনও ক্ষেত্রে স্তনের ক্যান্সারে আক্রান্ত পুরুষ রোগী আসছেন৷ তেমনই, বদলে যাওয়া অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে স্তনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন, এমন বহু পুরুষ রোগীও তাঁদের চেম্বারে ভিড় করছেন বলেও জানিয়েছেন ওই চিকিৎসকরা৷ কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কান্সার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মেডিক্যাল ডিরেক্টর আশিস মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, কলকাতায় পুরুষদের মধ্যেও স্তনের ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে৷ এর পিছনে জিনগত কারণ যেমন রয়েছে৷ তেমনই, পুরুষদের স্তনের ক্যান্সারের জন্যেও ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী বদলে যাওয়া অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন৷ জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে পারলে পুরুষরাও এড়াতে পারেন স্তনের ক্যান্সার৷’

এক সময় এমনও হয়েছে, স্তনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন কোনও পুরুষ, অথচ তা নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি৷ তবে, সচেতনতার জন্য এখন অনেক পুরুষের ক্ষেত্রে তাঁদের স্তনের ক্যান্সার দ্রুত নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে৷ ফলে, চিকিৎসার মাধ্যমে তাঁরা সুস্থও হয়ে উঠছেন৷ এ কথা জানিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গৌতম মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘কলকাতায় পুরুষদের স্তনের ক্যান্সার আগের তুলনায় এখন বেশি দেখা যাচ্ছে৷ পুরুষদের স্তন স্বাভাবিকভাবেই আকারে ছোট৷ যে কারণে, পুরুষদের স্তনে কোনওরকম টিউমার হলে, তা সহজে নির্ণয়ও করা সম্ভব হয়৷ আর এ সবের জন্যই কোনও পুরুষ স্তনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হলেও, বহু ক্ষেত্রেই তাঁর চিকিৎসাও দ্রুত শুরু করা সম্ভব৷’

নিয়মিত ফাস্ট ফুড খাওয়া এবং মদ্যপান ও ধূমপান সহ তামাকজাত বিভিন্ন দ্রব্য সেবনের মতো বিষয়গুলি যেমন রয়েছে বদলে যাওয়া অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের মধ্যে, তেমনই রয়েছে অতিরিক্ত নোনতা খাবার খাওয়া, পরিমাণের কম জল পান করা, নিয়মিত শরীর চর্চা না করার মতো বিষয়গুলিও৷ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার মিলিয়ে বর্তমানে গোটা বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা যতজন, তার ১০ ভাগের এক ভাগ রয়েছেন এ দেশে৷ প্রতি বছর ভারতে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার মিলিয়ে নথিভুক্ত আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে এখন আট থেকে ১০ লক্ষ করে৷ এই সংখ্যা এ রাজ্যে ১৪ হাজার এবং কলকাতায় তিন হাজার৷ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার মিলিয়ে বর্তমানে এ রাজ্যে নথিভুক্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮ হাজার৷ আর, কলকাতায় এই সংখ্যা ১২ হাজার৷

কাজেই, যেভাবে বদলে যাওয়া অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের জন্য কলকাতায়ও পুরুষদের মধ্যে স্তনের ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা৷ স্বাভাবিকভাবেই, ক্যান্সার এড়াতে তাঁরা আরও বেশি সচেতনতার উপরই গুরুত্ব দিচ্ছেন৷