কলকাতা: আন্তর্জাতিক শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন আয়োজিত বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়ে জোড়া পদক জিতেছেন বাংলার মেয়ে মেহুলি ঘোষ৷ মেক্সিকো থেকে জোড়া ব্রোঞ্জ নিয়ে দেশে ফিরলেন মেহুলি৷ শনিবার বিকেলে দমদম বিমানবন্দরে বাংলার কৃতী শুটারকে সংবর্ধনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন অনেকে৷

গুয়াদালাজারায় অনুষ্ঠিত সিনিয়র শুটিং বিশ্বকাপে ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টের ফাইনালে ব্রোঞ্জ জেতেন বাংলার মেহুলি ঘোষ৷ ফাইনালে স্কোর করেন ২২৮.৪৷ পরে একই ইভেন্টের মিক্সড ডাবলসে দীপক কুমারের সঙ্গে জুটিতেও ব্রোঞ্জ জেতেন মেহুলি৷ বিশ্বকাপের আসরে ব্রোঞ্জ জিতে ইতিহাসের পাতায় নাম তুলে ফেললেন বছর ১৭ এর এই শুটার৷ তাঁকে এখন ভারতীয় শুটিংয়ের সেরা সম্ভাবনা বলা হচ্ছে৷

শ্রীরামপুর থেকে বিশ্ব শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত রাস্তাটা মেহুলির জন্য একেবারেই সহজ ছিল না৷ বাবা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একজন অস্থায়ী কর্মী৷ তাঁর পক্ষে মেয়ের রাইফেল শুটিংয়ে আসার ইচ্ছের পাশে দাঁড়ানোটা বেশ কষ্টেরই ছিল৷ প্রথমত এই খেলা সম্পর্কে মেহুলির পুরো পরিবারই তেমন কিছু জানতেন না৷ সঙ্গে খেলাতে আসার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার মত অর্থের যোগানও ছিল না৷ বিষয়টি উল্লেখ করে শ্রীরামপুরের জেদি মেয়ে জানিয়েছিলেন ‘আমার বাবা আত্মীয়দের কাছ থেকে টাকা ধার নেন৷ দাদুও টাকা দিয়ে সাহায্য করেন৷’

টাকার ঝামেলা মিটলেও নতুন বিপত্তির সামনে পড়ে রাইফেল শুটিং ছেড়ে দেওয়ার সম্মুখীন হন মেহুলি৷ ৫০ মিটারে প্র্যাক্টিস করার সময় তার ভুল শটে আহত হন ট্রেনার৷ শ্রীরামপুর রাইফেল ক্লাবে তাঁকে ৫০ মিটার খেলা থেকে ব্যান করা হয়৷ এই সময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মেহুলি৷

অর্জুনের খারাপ সময়ে তাঁকে সঙ্গ দিয়ে বিজয়ী বীর বানানোর জন্য যেমন শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন ছিলেন ঠিক তেমনি অলিম্পিয়ান শুটার জয়দীপ কর্মকারকে কোচ হিসাবে পান মেহুলি৷ তাঁর কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েই ২০১৭ সালে জাতীয়স্তরে ৯টি পদক জেতেন শ্রীরামপুরের রাইফেল-গার্ল৷ একই বছরে জাপানে এশিয়ান এয়ারগান চ্যাম্পিয়নশিপে ইয়ুথ ক্যাটাগরিতে সোনা জেতেন মেহুলি ঘোষ৷ ২০১৮ গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসেরও ছাড়পত্র আদায় করেছেন মেহুলি৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ